যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের ‘গুরুতর পরিণতি’ সম্পর্কে মার্কিন সিনেটকে সতর্ক করেছেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি। মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, বিদ্যমান মহামারির মধ্যেই অর্থনীতি সচল করে দেওয়া হলে ভাইরাসটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ’-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অ্যান্থনি ফাউচি। সিনেটকে তিনি বলেছেন, পুনরায় অর্থনীতি সচল করে দিতে ফেডারেল সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করা না হলে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কিছুটা কম হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ৮০ হাজারেরও বেশি বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই বিশেষজ্ঞ।

ড. অ্যান্থনি ফাউচি-র মন্তব্য দৃশ্যত দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অর্থনীতি বাঁচাতে করোনাকেন্দ্রিক বিধিনিষেধগুলো তুলে দেওয়ার পক্ষপাতী ট্রাম্প।

ভিডিও কলের মাধ্যমে সিনেটের রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কমিটির সঙ্গে কথা বলেন ১৪ দিনের সতর্কতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকা অ্যান্থনি ফাউচি।

অর্থনীতি ফের সচলের হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন শীর্ষস্থানীয় এ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪ দিনের তিনটি ধাপ অতিক্রমের পর রাজ্যগুলোকে স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হবে।

ইতোমধ্যেই কিছু রাজ্য তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে শুরু করেছে। তবে সেসব রাজ্যে সংক্রমণ কমছে না; বরং বেড়েই চলেছে।

প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, প্রশাসন এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। এ ধরনের প্রাদুর্ভাব বরং উল্টো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে একটি ঝাঁকুনি দেবে। এতে করে বহু মানুষ ‘দুর্ভোগ ও মৃত্যুর’ মুখে পড়বে।

হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যেই অর্থনীতি পুনরায় সচলের ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে। তবে কীভাবে লকডাউন মসৃণ করে আনা হবে সে ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নররাই সিদ্ধান্ত নেবেন।

ড. অ্যান্থনি ফাউচি বলেন, এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, এমনকি সর্বোত্তম পরিস্থিতিতেও যখন আপনি বিধিনিষেধ থেকে পিছিয়ে আসবেন, তখনও কিছু ঘটনা হাজির হবে।

সতর্কতামূলক আশাবাদ

আসন্ন শরতে যুক্তরাষ্ট্রে ফের করোনার প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে অ্যান্থনি ফাউসি বলেন, এটা পুরোটাই অনুমান মাত্র। তবে বাস্তবে এটি ঘটা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি দ্বিতীয় দফায় প্রাদুর্ভাবের হুমকি থাকে তাহলে আমার প্রত্যাশা তখন আমরা খুব কার্যকরভাবে এটি মোকাবিলায় সক্ষম হবো।’

করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যেই অর্থনীতি সচল করে দেওয়ার বিষয়ে এর আগেও সতর্ক করেছেন ড. অ্যান্থনি ফাউচি।

করোনাভাইরাস সংকটের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন ড. অ্যান্থনি ফাউচি। হোয়াইট হাউসের করোনা টাস্ক ফোর্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথম বারের মতো সিনেট কমিটির মুখোমুখি হন তিনি। ভার্চুয়াল শুনানিতে তিনি আইনপ্রণেতাদের সামনে বক্তব্য রাখেন।

ওই শুনানির আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে ড. ফাউচি বলেন, ‘আমেরিকা আবারও খুলে দিতে আমরা যদি চেকপয়েন্টগুলো এড়িয়ে যাই তাহলে দেশজুড়ে একাধিক প্রাদুর্ভাবের বিপদের ঝুঁকিতে পড়বো। এতে কেবল অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগ ও মৃত্যু হবে তা-ই নয় বরং আমাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকাঙ্ক্ষাও বিলম্বিত হবে।’

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের মহামারিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুসারে দেশটিতে ১৩ লাখ ৬৯ হাজারেরও বেশি মানুষের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে সংক্রমণের গতি অপেক্ষাকৃত কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যই আংশিকভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য