ভারতে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ সময় ১৩ মে বুধবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ভারতে এ পর্যন্ত মোট ৭৪ হাজার ৪৮০ জনের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৪১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৪ হাজার ৩৮৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বুধবার এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় নতুন করে ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও তিন হাজার ৫২৫ জনের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার রাতেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভাষণে বিদ্যমান লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়ানোর ব্যাপারে ইঙ্গিত দেন তিনি।

করোনার জেরে সৃষ্ট অর্থনৈতিক দৈন্যদশা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ২০ লাখ কোটি টাকার একটি আর্থিক প্যাকেজও ঘোষণা করেন মোদি। ১৭ মে-র পর ফের ‘লকডাউন ৪’-এর ঘোষণা হলেও এবারের বিধিনিষেধ ভিন্ন হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ভারতে করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মহারাষ্ট্রের। সেখানে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। মঙ্গলবার এক হাজারেরও বেশি নতুন করোনা রোগীর সন্ধান মিলেছে সেখানে। সব মিলিয়ে রাজ্যটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজার ৪২৭ জন। সংখ্যার হিসাবে আক্রান্তের তালিকায় মহারাষ্ট্রের পরে রয়েছে গুজরাট, তামিলনাড়ু ও দিল্লির মতো রাজ্যগুলো।

মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি যে শহরটিতে কোভিড- ১৯ বাসা বেঁধেছে সেটি মুম্বাই। পুরো দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ করোনা রোগী রয়েছে সেখানে।

মহারাষ্ট্রে যত মানুষের করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে ৬০ শতাংশই হয়েছে মুম্বাইয়ে। মৃত্যুর শহর হয়ে উঠেছে এটি। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, মুম্বাইয়ের নতুন নতুন এলাকায় করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

২৫ মার্চ থেকে ভারতে টানা লকডাউন চলছে। আগামী ১৭ মে এর মেয়াদ শেষের কথা ছিল। তবে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। তবে তিনি এ কথাও বলেছেন যে এবারের লকডাউনে বিধিনিষেধের নির্দেশিকায় বেশ কিছু অদলবদল আসবে। পাশাপাশি দেশের মানুষের আর্থিক সহায়তায় ২০ লাখ কোটি রুপির একটি প্যাকেজও ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘এই প্যাকেজ আত্মনির্ভর ভারতকে এগিয়ে দেবে। সব প্যাকেজ মিলিয়ে ২০ লাখ কোটি রুপির মতো হবে। এটি ভারতের জিডিপি-র প্রায় ১০ শতাংশ। ২০২০ সালে ২০ লাখ কোটি রুপির প্যাকেজ আত্মনির্ভর ভারত অভিযানকে নতুন গতি দেবে।’ এই প্যাকেজে জমি-শ্রমিক সবকিছুর ওপরই নজর দেওয়া হয়েছে। মধ্যবিত্তদের জন্যই এই প্যাকেজ।

মোদি বলেন, ‘এই প্যাকেজ কৃষি, এমএসএমই, মধ্যবিত্ত, শ্রমিক সব শ্রেণীর জন্য। আমাদের মনে রাখতে হবে আত্মনির্ভরতা মানে আত্মকেন্দ্রিকতা নয়। এতোদিন আমাদের গরিব, দুঃস্থ শ্রমিক, মৎস্যজীবী, কৃষক বন্ধুরা, যারা এই সংকটে কষ্ট করেছেন, তাদের কষ্ট লাঘব করতেই এই প্যাকেজ।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য