আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট থেকেঃ ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর হয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে বিশেষ ব্যবস্থায় পাটবীজ নিয়ে আসা ৬১ট্রাকচালক এসে আটকে পড়েছিলেন। দীর্ঘ ৩৯ দিন বুড়িমারী স্থলবন্দরের দেয়াল ঘেরা চত্বরে আটকে থাকার পর তাদের ফিরে নিয়েছে ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর ।

মঙ্গলবার (১২মে) বিকেল ৫টার দিকে বুড়িমারী স্থলবন্দরের দিয়ে ৬১টি ট্রাক চালক চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরের দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িমারী ইমিগ্রেশন পুলিশ ইনচার্জ (এসআই) খন্দকার মাহমুদ। এর আগে গত ৪ এপ্রিল বিশেষ অবস্থায় পাটবীজ নিয়ে এ দেশে এসেছিলেন তারা।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর গত ২২ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ লকডউন ঘোষণা করা হয়। এতে আমদানি করা ৬১টি পাটবীজের ট্রাক আটকা পড়ে ভারতে। এরপর অজ্ঞাত কারণে আরও ৩ দিন বন্ধ থাকার পর বিশেষ ব্যবস্থায় ৪ এপ্রিল ট্রাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ওই দিনই ট্রাক খালি করে সেগুলো ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ফেরার সময় বাধা দেয় ভারতের চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তখন থেকে ৬১টি ভারতীয় ট্রাক আটকে আছে বুড়িমারী স্থলবন্দরে।

তাদের ভারতে ফিরে নেওয়ার জন্য ভারতীয় দূতাবাস ও কোচবিহারের ডিএমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে জেলা প্রশাসক আবু জাফর। কিন্তু সাড়া দেয়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। যার ফলে এসব ট্রাকচালকরা করোনাভাইরাসের কারণে পরিবার-পরিজনের চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েন। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দরে চিঠি আসে তাদের ভারতে পাঠাতে। এ খবর ছড়িয়ে গেলে ট্রাক চালকদের মাঝে উৎসবের আমেজ দেখা যায়।

ভারতের ট্রাকচালক ইজাহার আলী জানান, রহমতের মাসে বাংলাদেশ সরকার আমাদের অনেক সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের সরকারকে আল্লাহ ভালো রাখুক।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ভারতে দূতাবাস ও কোচবিহারের ডিএমের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের ফিরে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ দেখা যায় নি। পরে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠালে দুই দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বৈঠক করে তাদের ফিরে নেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য