বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদাতাঃ চরম অর্থ সংকটে পড়েছে দিনাজপুর জেলার সর্ববৃহৎ ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান সেতাবগঞ্জ চিনিকল লিঃ। গতকাল ১০ মে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেতাবগঞ্জ চিনিকলের মুল ফটকের সামনে ৫ মাসের বেতন ভাতার দাবীতে মানববন্ধ ও বিক্ষোভ করেছে শ্রমিক/কর্মচারীরা।

এবিষয়ে চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রশান্ত কুমার চৌহান ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াম আলী সরকার জানিয়েছেন, গত ৫মাস ধরে মিলে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীরা বেতন ভাতা না পেয়ে অর্ধাহারে অনাহারে পরিবার জরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

আখচাষীদের পাওনা, মজুরী কমিশনের এরিয়া বিল, শ্রমিক কর্মচারীদের ৫মাসের বেতন ভাতাসহ প্রায় ৩২ কোটি টাকা মিলটির কাছে বকেয়া রয়েছে। বেতন ভাতা পাওয়ার বিষয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের আমরা তেমন কোন সহযোগিতা করতে পারছি না।

যে কারণে প্রতিনিয়ত শ্রমিক কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদেরকে। শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বেতন ভাতা পরিশোধের বিষয়ে বার বার চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চাপ দিয়েও আমরা কোন ফল পাচ্ছিনা।

আখচাষী সমিতির সভাপতি মোঃ ফয়জুল আলম চৌধুরী বাবলু সহ শ্রমিক নেতারা বেতন ভাতা পরিশোধের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধের বিষয়ে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.এইচ.এম জাকির হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধের বিষয়ে ঢাকা সদরদপ্তরে প্রতিনিয়ত লিখিত ভাবে জানানো হচ্ছে।

ঢাকা সদরদপ্তর আমাকে চিনি বিক্রি করে শ্রমিক/কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করতে বলেছে। চিনি বিক্রি না হওয়ার কারণে সময়তম শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা দেয়া যাচ্ছেনা। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আশা করছি ঈদের আগেই শ্রমিক/কর্মচারীরা তাদের বকেয়া বেতন পেয়ে যাবেন। মিলের গোডাউনে আনুমানিক ১৭ কোটি টাকার ও বেশী চিনি ও চিটাগুর মজুদ রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য