যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বিরল এক প্রদাহজনিত উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর এ্যান্ড্রু কুমো জানিয়েছেন।

বিরল এ উপসর্গের সঙ্গে প্রাণঘাতী নতুন করোনাভাইরাসের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে; এমনটা হলে কোভিড-১৯ অল্পবয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবেই আবির্ভূত হবে।

শনিবার কুমো এ তিন শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

একইদিন তিনি নিউ জার্সির গভর্নর ফিল মারফির সঙ্গে মহামারীর কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়তে থাকা চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়েও কথা বলেন।

শনিবারের ব্রিফিংয়ে কুমো জানান, শিশুদের মধ্যে দেখা দেওয়া তীব্র শক এবং ‘কাওয়াসাকি’ রোগের মতো রক্তনালীতে প্রদাহ ও হার্টের সম্ভাব্য মারাত্মক ক্ষতির উপসর্গগুলো তার দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মৃত তিন শিশুর মধ্যে ৫ বছর বয়সী একটি শিশুও আছে বলে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল।

নিউ ইয়র্কে বিরল উপসর্গে মৃত তিন শিশুর দেহে কোভিড-১৯ কিংবা তার অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানান কুমো।

এ কারণেই বিরল ওই উপসর্গগুলোর সঙ্গে প্রাণঘাতী নতুন করোনাভাইরাসের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে; যদিও এ সম্পর্কের বিষয়টি বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি।

নিউ ইয়র্কের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত ৭৩ শিশুকে পর্যালোচনা করে দেখছে বলে কুমো জানান।

রয়টার্স বলছে, নতুন করোনাভাইরাসের সঙ্গে এ উপসর্গগুলোর যোগ পাওয়া গেলে, কোভিড-১৯ শিশুদের জন্য তেমন মারাত্মক নয় বলে এতদিন যে ধারণা ছিল তা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

“এমনটাই কিনা, নিশ্চিত নই আমরা। বাচ্চা, প্রাকপ্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাওয়াসাকি রোগ কিংবা মারাত্মক শকের মতো উপসর্গগুলো দেখা যাচ্ছে। হতে পারে যে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই এ উপসর্গগুলো পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলোকে কোভিড-১৯ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি,” বলেছেন কুমো।

ডেমোক্রেট এ গভর্নর জানান, তার অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক জেনোম সেন্টার ও রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একত্রে এ উপসর্গগুলোর কোনো বংশগতিগত ভিত্তি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনকে এ ধরনের রোগীকে শনাক্ত ও তার চিকিৎসার মানদণ্ড ঠিক করতেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কুমো মৃত তিন শিশুর উপসর্গগুলোকে যে রোগের উপসর্গের মতো বলেছেন, সেই কাওয়াসাকি রোগে সচরাচর জ্বর, চামড়ায় ফুসকুড়ি, আক্রান্ত রোগীর বিভিন্ন গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং কখনো কখনো হার্টের ধমনীতে প্রদাহও দেখা যায় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এ ধরনের উপসর্গের সঙ্গে কোভিড-১৯ এর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা বিজ্ঞানীরা তা খতিয়ে দেখছেন। যদিও এ উপসর্গে আক্রান্ত অনেক শিশুর শরীরেই প্রাণঘাতী নতুন করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি।

শুক্রবার নিউ জার্সিতে যে চার বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তার ওই উপসর্গগুলো ছিল না বলে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর মারফি নিশ্চিত করেছেন।

কোভিড-১৯ এর বিস্তারের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক মানুষের চাকরি হারানোর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের গভর্নরদের এখন ভাবতে হচ্ছে; শিথিল করতে হচ্ছে বিধিনিষেধ।

দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় সবগুলোই চলতি সপ্তাহের মধ্যে লকডাউন শিথিল করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এ অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা অ্যারিজোনা ও মিসিসিপিও রয়েছে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার আগে বিধিনিষেধ তুলে নিলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রাদুর্ভাব বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধারাবাহিকভাবে সতর্ক করে আসছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য