দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বীরগঞ্জে দূরপাল্লার বাস বন্ধ হওয়ার খেয়ে -না খেয়ে নিরবে কষ্ট হজম করছেন টিকিট মাস্টারা। করোনাভাইরাস রোধে দূরপাল্লার বাস বন্ধ হলে প্রায় ৫০০ জন পরিবারে চলছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। এসব কাউন্টারে থাকা অনেকে কাউন্টার ম্যানেজার ও টিকিট মাস্টার হিসেবে পরিচিত হওয়ায়র হাত না পেতে কষ্টকে নিরবে হজম করছেন।

সমাজে তাদের ভালো একটি অবস্থান থাকায় তারা যেমন কারো কাছে চাইতে পারছেন না তেমনি তাদের নিয়েও ভাবছে না সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়। সরকার ঘোষিত লকডাউন চলমান থাকায় দীর্ঘ একমাসের বেশি সময় দূরপাল্লার কোচ-বাস বন্ধ থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই সময় কোচ কাউন্টারগুলোতে হওড়ে ধান কাঁটা শ্রমিকদের প্রাণচাঞ্চল্য থাকতো। কিন্তু করোনার কারণে এখন কাউন্টারগুলোতে প্রাণ নাই বলেই চলে।

বীরগঞ্জ পৌরসভার ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কে দুই পাশে জুলফিকার, রাজু,সাজু, নিতু, জাহাঙ্গীর, নিয়াকত,আলী, পীযুষের মতো অনেকেই কাউন্টার টিকিট বিক্রি করে তার লাভাংশ পেয়ে পরিবার -পরিজন নিয়ে সুন্দর ভাবেই চলতো। দেশজুড়ে করোনার প্রভাবে দূরপাল্লার কোচসহ সকল ধরণের যানবাহন বন্ধ থাকায় অনেকের দুরবস্থা, টানাপোড়ন চলছে। দীর্ঘ দিন ধরে দূরপাল্লার কোচ বন্ধ থাকায় ধূলা -ময়লা পরে কাউন্টারগুলো অপরিষ্কার হয়ে পড়ে আছে।

কোচ কাউন্টার ম্যানেজার উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের সরদার পাড়া ২নং ওয়ার্ডের মোঃ লকমান হোসেনের ছেলে মোঃ আলী হোসেন বলেন, দীর্ঘ ৪১ দিন ধরে কোচ কাউন্টার বন্ধ হয়ে গেলে আমার পরির্জন নিয়ে খেয়ে -না খেয়ে নিরবে কষ্ট হজম করছি। আমি এখন পর্যন্ত সরকারি -বেসরকারি সহায়তা পায়নি। ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আসা-আসা রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন,মটর পরিবহন শ্রমিক বীরগঞ্জ বাস শাখা থেকে একবার ৫শ’ টাকা পেয়েছি। আমার পরিবারে বৃদ্ধ পিতা -মাতাসহ সাত সদস্য নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বাস না খুলে আমরা খাবো কি! বীরগঞ্জ উপজেলায় কমবেশি সবাই ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন কিন্তু আমরা পায় না। বীরগঞ্জ পৌরসভার কাউন্টার ম্যানেজার পীযুষ বলেন, করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি কিছু কিছু শপিং মহল, দোকানপাট ও প্রতিষ্ঠান খুলেও আমরা অনেকটাই অসহায় ও কর্মহীন হয়ে পড়েছি। আমাদের মধ্যে অনেকেই শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য না হওয়ার কারণে অনেকে নানা সুযোগ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তবে সরকারের কোন প্রণোদনার পেলে আমরা কোনো মতো খেয়ে বাঁচতে পারি। ভি আই পি কোচ কাউন্টার ম্যানেজার বীরগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের খালপাড়া এলাকার শাহ আলমের ছেলে মোঃ লিয়াকত জানান,এরকম সময় আগে কখনো কাটেনি। করোনা পরিস্থিতিতে একদিন চুলা জ্বল তো আর একদিন জ্বলে না। আমার ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ফারুক হোসেন এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সহায়তা দেয়নি। কি আর করার নিরবে কষ্ট হজম করা ছাড়া!

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য