করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে যেমন বিদেশ ফেরতদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তেমনি জ্বর-হাঁচি-কাশি যাদের আছে তাদেরও থাকতে বলা হচ্ছে ঘরে। শুধু তাই নয়, জনসাধারণকেও অপ্রয়োজনে বাসার বাইরে বের না হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মুষড়ে পড়ছেন অনেকেই। তবে এই মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়াটাই জরুরি। সচেতনতার অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে এই সময়টা ঘরের ভেতর কাটানো ভীষণ প্রয়োজন। নিজেকে গৃহবন্দী মনে করবেন না। ভাবুন একটি অপ্রত্যাশিত ছুটি পেয়ে গেছেন, যে সময়টুকু কেবল নিজের জন্য। এই সময়ে কী কী করা যেতে পারে সেই সম্পর্কে জেনে নিন।

বই পড়ুন
ভাবুন তো, শেষ কবে সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা হাতে প্রিয় বইটি পড়েছিলেন? নিশ্চয় অনেক দিন হয়ে গেছে? প্রিয় লেখকের বই হাতে শুরু করতে পারেন চমৎকার একটি সকাল। চায়ের কাপের আলস্য আর বই- দুটোই বেশ উপভোগ্য হবে।

নতুন কিছু শিখুন
যদি ক্র্যাফটিংয়ের শখ থাকে, তবে নতুন কিছু শেখার জন্য এটিই আদর্শ সময়। ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখতে পারেন এই সংক্রান্ত। ইন্টারনেট দেখে শেখা প্রজেক্ট হাতে-কলমে প্র্যাকটিস করার জন্যও সময় হাতে পেয়ে যাবেন।

পুরনো শখ ঝালিয়ে নিন
সময়ের অভাবে ধুলো জমে গেছে শখের তানপুরায়? কিংবা প্রিয় গিটারের তার স্পর্শ করেছেন শেষ কবে, মনে পড়ছে না? এই সময়ে পুরনো শখগুলো আরেকবার ঝালিয়ে নিন।

মুভি দেখুন
দেখতে পারেন সিনেমা বা সিরিজ। চাইলে কমেডি মুভি, হরর মুভি কিংবা থ্রিলার মুভির তালিকা বানিয়ে নিতে পারেন। ছুটির সময়টা বেশ ভালোই কাটবে।

রান্না করুন
নিজের জন্য প্রিয় খাবার রান্না করার সময়টা বের করা হয়ে ওঠে না ব্যস্ত জীবনে। এই সময় নিজের জন্য রান্না করতে পারেন। নতুন রেসিপিও ট্রাই করতে পারেন।

ব্যায়াম করুন প্রতিদিন
ঘরে করা যায় এমন কিছু ব্যায়াম প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিটের জন্য করুন। ইয়োগাও করতে পারেন। শরীর ও মন ফুরফুরে থাকবে।

গাছের যত্ন নিন
অনেকেই বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় গাছ লাগান। এ সময় গাছের পরিচর্যায় সময় দিতে পারেন।

বাড়তি কাজ করে ফেলুন
সময়ের অভাবে বাড়ির স্টোররুম হয়তো গোছানো হয়ে উঠছিল না অনেকদিন থেকে। এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে এই ধরনের বাড়তি কাজ করে ফেলতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন
অস্থিরতার এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব কম সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন ধরনের গুজবের কেন্দ্রস্থল কিন্তু এসব মাধ্যম। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক ভাবনাও আঁকড়ে ধরবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি সময় দিলে। এ সময় কিন্তু মানসিক সুস্থিরতা ভীষণ জরুরি।

করণীয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকুন
করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে কী করা উচিৎ এবং কী করা উচিৎ নয়, সে সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল থাকার চেষ্টা করুন। এ সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রচার করা উপদেশ মেনে চলুন। গুজব বা ভিত্তিহীন সংবাদ বিশ্বাস করবেন না বা ছড়াবেন না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য