অতিরিক্ত ঘুমের কারণে যেমন ওজন বাড়ে তেমনি কম ঘুমেও রয়েছে ক্ষতি।

স্বাস্থ্যকর একটি জীবন পেতে ওজন নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্পই নেই। কারণ ওজন যতো বাড়বে, ততই সঙ্গে বয়ে আনবে নানান রোগবালাই। আর উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ও স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হবে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস আর নিয়মিত শরীরচর্চা ছাড়া অন্য কোনো স্বাস্থ্যকর উপায় নেই।

তারপরও অনেক কিছুই আপনার এই ওজন নিয়ন্ত্রণের যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হলো সকালের কিছু বদভ্যাস সম্পর্কে যা ওজন নিয়ন্ত্রণের পথে অন্তরায়।

অতিরিক্ত ঘুমানো: ওজন কমানোর সবরকম চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পেছনে অনেক সময় অতিরিক্ত ঘুমানোই দায়ি থাকে। পাশাপাশি এতে ওজন বাড়েও। রাতে নয় ঘণ্টার বেশি ঘুমালেই তাকে অতিরিক্ত ঘুম ধরে নেওয়া হয়। আবার সাত ঘণ্টার কম ঘুমালে তা হবে অপর্যাপ্ত, স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে সেখানেও। যাদের বংশগত স্থূলতার সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। দিনের বেলা ঘুমানও ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মোটেই উপকারী নয়।

সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া: সকালের নাস্তা না খেলে হজমতন্ত্রের সমস্যা দেখা দেবে, শরীরের জৈবিক ঘড়িতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। দুটোই ওজন বাড়াতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। আবার সকালে না খেয়ে থাকলে পুরোদিন শরীর আলসেমিতে জড়িয়ে থাকবে। আজেবাজে জিনিস খেতে ইচ্ছে হবে, যা ওজন বাড়ার আশঙ্কা আরও বাড়াবে।

ধ্যানের অনুশীলন: ভোরে ঘুম থেকে উঠে ধ্যান করতে পারলে তা ওজন কমাতে অনেকটা সাহায্য করবে। ধ্যানের মাধ্যমে মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোন ‘কর্টিসল’য়ের মাত্রা কমে। এই ‘কর্টিসল’ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে খাওয়া রুচি বাড়ে, খাওয়া পরিমাণ বাড়ে ফলে ওজন বাড়ে। তাই সকালে ধ্যান করার অভ্যাস গড়তে পারলে মানসিক চাপ কমবে, যা মন ও শরীর দুটোই ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

স্ট্রেচিং: ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য শরীরচর্চা যেমন জরুরি তেমনি শরীরচর্চা শুরু আগে ‘স্ট্রেচিং’ করে নেওয়াও অত্যন্ত জরুরি। এতে আঘাত পাওয়া হাত থেকে বাঁচবেন, ব্যায়ামের কারণে হওয়া শরীর ব্যথার মাত্রা কমবে। পাশাপাশি ওজন কমাতেও ভূমিকা রাখবে ‘স্ট্রেচিং’। ওজন কমানোর জন্য যোগ-ব্যায়াম বেশ কার্যকর যদি প্রতিদিন করা সম্ভব হয়।

পানি পান: ঘুমের উঠে এক গ্লাস কক্ষ তাপমাত্রার পানি পান করার অভ্যাস প্রতিটি মানুষের থাকা উচিত। শরীরে ভারসাম্য ধরে রাখে এই তরল, নিয়ন্ত্রণে রাখে দেহের তাপমাত্রা। ক্যালরি কমানো, হজমে সহায়তা ও বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে ওজন কমাতেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পানি। শরীরচর্চা চালিয়ে যেতেও পানি পান প্রয়োজন। দিনে ঠিক কতটুকু পানি পান করা আবশ্যক তা নির্ভর করে একজন মানুষের বয়স, শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা, আর্দ্রতা ও সার্বিক স্বাস্থ্যের ওপর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য