নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় স্পেনে জারি করা কঠোর বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে এলেও গণপরিবহনের ভেতর সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে বলা হয়েছে।

দেশটিতে সোমবার থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন গণপরিবহনের স্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় ৬০ লাখ মাস্ক সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। স্থানীয় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষকে দেয়া হবে আরও ৭০ লাখ মাস্ক।

দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকরা সাত সপ্তাহ পর শনিবার প্রথম শরীরচর্চার জন্য বাইরে আসার অনুমতি পেয়েছেন। ১৪ বছরের নিচের শিশুদের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল হয়েছে সপ্তাহখানেক আগেই।

“খুশি। মুক্ত মনে হচ্ছে,” বলেছেন লকডাউন শিথিল হওয়ায় শরীরচর্চার জন্য বাইরে আসার সুযোগ পাওয়া মাদ্রিদের বাসিন্দা সুসানা পিয়েগো।

জেসুস গুতিরেজ নামে রাজধানীর আরেক বাসিন্দা বলছেন, “এটা মৌলিক ব্যাপার। শারিরীক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য লোকজনকে খেলার অনুমতি দেওয়াটা জরুরি।”

লকডাউন থাকলেও স্পেনের নাগরিকরা ১৪ মার্চ থেকে খাবার বা ওষুধ কিনতে, বাসায় বসে কাজ করা সম্ভব না হলে কাজে যেতে এবং কুকুরকে বাইরে হাঁটতে নিয়ে যেতে ঘরের বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পেতেন।

নতুন নির্দেশনায় ভিন্ন ভিন্ন বয়সীদের ঘরের বাইরে শরীরচর্চার জন্য সময় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্করা এখন স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ১০টা এবং রাত ৮টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত হাঁটতে বা খেলাধুলা করতে পারবেন।

স্পেনের মতোই ইউরোপের অন্যান্য দেশেও সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা বলবৎ রেখেই লকডাউন শিথিল হচ্ছে। বেশ কয়েকটি দেশ দোকানে ও গণপরিবহনে মাস্ক বাধ্যতামূলক করেছে।

নতুন এ করোনাভাইরাসে ইউরোপের মধ্যে এখন পর্যন্ত ইতালিতেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখা গেছে। এরপরের দুটি স্থান যুক্তরাজ্য ও স্পেনের।

যুক্তরাজ্যে এখনও প্রতিদিন কয়েক হাজার নতুন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হচ্ছে। শনিবার দেশটিতে মৃতের সংখ্যায় আরও ৬২১ জন যোগ হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এই তিন দেশের মধ্যে ইতালিতে মারা গেছে ২৮ হাজার ৭১০ জন, যুক্তরাজ্যে ২৮ হাজার ২০৫ ও স্পেনে ২৫ হাজার ১০০ জন, জানাচ্ছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান।

তবে ফ্রান্স ও ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসতে দেখা যাচ্ছে।

ইতালির কর্তৃপক্ষ শনিবার কোভিড-১৯ এ আরও ৪৭৪ জনের মৃত্যুর কথা জানালেও এ সংখ্যাতে এপ্রিলে হাসপাতালের বাইরে মারা যাওয়া ২৮২ জনও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে লা রিপাবলিকা।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেছেন, তার দেশ এখন লকডাউনের সময়কার ত্যাগের পুরষ্কার পাচ্ছে। ইউরোপের মধ্যে স্পেনের লকডাউনই সবচেয়ে কঠোর ছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে স্পেনের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলোকে সহায়তায় সরকার ১৬ বিলিয়ন ইউরোর একটি তহবিলে অনুমোদন দিয়েছে বলেও সানচেজ জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য