ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২ হাজার ২৯৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭১জন। এনিয়ে দেশটিতে শনিবার সকাল পর্যন্ত করোনায় ৩৭ হাজার ৩৩৬ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ জনে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়।

মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৯ হাজার ৯৫১ জন করোনামুক্ত হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন এবং আক্রান্তদের ১১১ জন বিদেশী নাগরিক।

এদিকে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ভারতে ৩ মে পর্যন্ত পূর্ব ঘোষিত লকডাউনের মেয়াদ আরো দুই সপ্তাহের জন্য বাড়িয়ে ১৭ মে পর্যন্ত করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লকডাউনের মেয়াদ বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে জানিয়েছে, লকডাউন বাড়লেও অঞ্চলভিত্তিক কিছু নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংক্রমণের হার ও ঝুঁকি বিবেচনায় জেলাগুলোকে রেড (হটস্পট), গ্রিন ও অরেঞ্জ জোনে ভাগ করা হবে। গ্রিন ও অরেঞ্জ জোনে কড়াকড়ি কিছুটা কম থাকবে।

নতুন নিয়ম চালু হলেও দেশজুড়ে বেশ কিছু কার্যক্রম বন্ধই থাকবে। এ দুই সপ্তাহ আকাশপথ, মেট্রো, রেলে আন্তঃরাজ্য ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকছে। স্কুল, কলেজ, অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, সিনেমা হল, শপিংমল, জিম, ক্রীড়া কমপ্লেক্সগুলোও বন্ধ থাকবে। যে কোন ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও গণজমায়েতেও থাকছে কড়া নিষেধাজ্ঞা।

তবে, নির্দিষ্ট কিছু কাজে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে আকাশ, রেল ও সড়কপথে চলাচল করা যাবে। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৫ মার্চ থেকে লকডাউন চলছে ভারতে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন অন্তত ১ হাজার ১৫৪ জন।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী ২ লাখ ৩৫ হাজার বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছ। আর আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ লাখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য