সিরাজুল ইসলাম বিজয়, তারাগঞ্জ রংপুর থেকেঃ রংপুরের তারাগঞ্জে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সবুজের চাদরে ভরে উঠেছে বোরো ধানের চাষ। সবুজের সমারোহ দেখে চাষিদের মুখে হাঁসি ফুটে উঠলেও বৈদেশিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাস নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

নিয়মিত পরিচর্চা ও কীটনাশক প্রয়োগে বোরো ধানের গোছা বাড়তে থাকলেও আবহাওয়ার গতিবেগের উপর নির্ভর করছে ফলনের ভবিষ্যত। তাই ভাল ফলনের আশায় চাষিরা নিরালস ভাবে পরিশ্রম করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সবকিছু অনুকূলে রয়েছে। এরকম অবস্থা থাকবে বলে আশা করছেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায়, এবার বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ৭শ ৩০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৫শ ৪০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮শ ১০ হেক্টর জমিতে আবাদ বেশি করেছেন কৃষকগণ।

উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পশ্চিম রহিমাপুর গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান বলেন, এবার আমি তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। এখন পর্যন্ত আবাদ আশানুরুপ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকের খরচ সাশ্রয় হবে।

অপরদিকে সয়ার ইউনিয়নের বাড়াপুর গ্রামের কৃষক সেকেন্দার আলী, আব্দুল বাকী বলেন, এসময় অতি খরা ও কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক আছে। আমরা সঠিক ভাবে পরিচর্চা করছি। আশা করছি তেমন কোন ক্ষতি হবে না।

আলমপুর ইউনিয়নের কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, বোরো ধানের ফলন এবার ভাল হওয়ার কথা কিন্তু ধান চাষিরা ধান বিক্রি করে খরচ তুলতে পারে না। এ বিষয়টা সরকারের ভেবে দেখা উচিত। যাতে প্রকৃত কৃষক উপকৃত হয়। বড় বড় ব্যবসায়ীরা যাতে কৃষকের রক্ত-ঘামে তোলা সোনালী ধানের সুফল ভোগ করতে না পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোঃ সরওয়ারুল হক বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকের পাশে থেকে পরামর্শ দিচ্ছে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এবার বোরো ধানের ফলন ভাল হয়েছে। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা ভাল ফলন ও ভাল দামও পাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য