লকডাউন আর বাড়বে কিনা, বাড়লে কতদিনের জন্য, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। অনুমান করা হচ্ছে সংক্রমণের হার যে সব অঞ্চলে বেশি, সেখানে লকডাউনের কড়াকড়ি বহাল রেখে বাকি সংক্রমণ মুক্ত এলাকায় শিথিল করা হবে নিয়মকানুন। একটা কথা অনুমান করা যাচ্ছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর লকডাউন ধাপে ধাপে উঠে যাওয়ার প্রক্রিয়াটা চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। কিন্তু নিয়ম শিথিল হলেও মাথায় রাখা দরকার, সরকারি নিয়ম যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগতভাবেও আপনাকে কিছু নিয়ম মেনে চলতেই হবে। কারণ বিশেষজ্ঞেরা বারবার বলছেন, লকডাউন দিয়ে করোনা ভাইরাসকে দমন করা যায় না, তার গতি কিছুটা রুখে দেওয়া যায় মাত্র আর সেই ফাঁকে রোগ প্রতিরোধের প্রস্তুতিটাও খানিক বাড়িয়ে নেওয়া যায়।

কাজেই লকডাউন থাক বা না থাক, নিজের সাবধানতাটা নিজেকেই রক্ষা করতে হবে, কারণ সংক্রমণ আজ কমে গেলেও কাল যে বাড়বে না, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই দেখে নিন, লকডাউন উঠে গেলেও কী কী সাবধানতা মেনে চলতেই হবে আপনাকে ও আপনার পুরো পরিবারকে।

যথাসম্ভব বাড়িতে থাকুন
লকডাউন অফিশিয়ালি শেষ হওয়ার পরেও বহু সংস্থাই যে তাদের কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালিয়ে যেতে বলবে, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। আপনি যদি সেরকমই কোনও সংস্থায় চাকরি করেন, তা হলে সবচেয়ে ভালো। এখন সেলফ-কোয়ারান্টিনের যে নিয়মগুলো মেনে চলছেন, সেগুলোই চালিয়ে যান। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বেরোবেন না, বেরোলেও দ্রুত কাজ শেষ করে ঘরে ঢুকে পড়ুন।

হাত ধোওয়া চালিয়ে যান
কোভিডের প্রাদুর্ভাব হওয়ার পর থেকে মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা আগের চেয়ে বেড়েছে। সেই অভ্যেস লকডাউন উঠে গেলেও বজায় রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে জামাকাপড় বদলে ফেলুন, সাবান দিয়ে খুব ভালো করে হাত-পা ধুয়ে ফেলুন। এমনকী, করোনা চিরকালের মতো বিদায় নিলেও এই অভ্যেসটা ধরে রাখুন। তাতে আরও অনেক রোগব্যাধি ঘেঁষতে পারবে না।

মাস্ক পরা বন্ধ করবেন না
কোনও কারণে বাড়ির বাইরে যেতে হলে মাস্ক বা ওড়না বা স্কার্ফ দিয়ে ভালোভাবে নাকমুখ ঢেকে রাখুন। তাতে শুধু কোভিড নয়, বাতাসের ধুলোময়লা, দূষণের হাত থেকেও রক্ষা পাবেন

ভিড় এড়িয়ে চলুন
যে কোনওরকম জনবহুল এলাকা এখন বেশ কিছু মাসের জন্য এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। দোকানবাজারে বেশি লোক জমে গেলে দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করুন বা অন্য দোকানে যান। ভিড় ট্রাম, বাস, মেট্রো এড়িয়ে চলুন। হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে বেরোন, যাতে ফাঁকা পরিবহণ না পেলে অপেক্ষা করতে পারেন।

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন
সর্দিকাশি হলে সঙ্গে রুমাল বা টিস্যু রাখুন। হাঁচিকাশির সময় মুখনাক ঢেকে নিতে ভুলবেন না। একাধিক রুমাল সঙ্গে রাখুন, প্রয়োজনমতো বদলে দিন। রুমাল প্রতিদিন কেচে দেবেন।

রেস্তোরাঁ, পাব, পার্টি নয়
আপাতত বেশ কিছু মাস এ সব থেকে দূরে থাকতেই হবে। শুধু রেস্তোরাঁ বা পার্টিই নয়, এড়িয়ে চলুন সিনেমাহল বা থিয়েটারও। মোট কথা ভিড় বেশি হতে পারে এমন সব জায়গাই এড়িয়ে চলতে হবে। বাড়িতেও বড়ো পার্টি, বেশি লোকজন নেমন্তন্ন করা, এ সব কিছুদিন বন্ধ রাখুন।

বেড়াতে চলে যাবেন না
লকডাউন শেষ হওয়া মাত্র মুক্তির স্বাদ নিতে হুট করে বেড়াতে চলে যাবেন না। আপাতত আরও কয়েক মাস নিরাপদ ঘেরাটোপেই থাকুন। -ফেমিনা

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য