সৌদি আরবে কারফিউ শিথিলের পর বিভিন্ন শপিংমল ও খোলা বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন ক্রেতারা। বিধিনিষেধ ওঠার প্রথম দিনে রিয়াদের কেন্দ্রস্থলের বিলাসবহুল বিপণিবিতানগুলোতেও স্বল্প সংখ্যক ক্রেতার উপস্থিতি দেখা গেছে।

নিরাপত্তা রক্ষীরা মাকের্টে আসা ক্রেতাদের শরীরের তাপমাত্রা মেপে তাদেরকে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছে। গৃহসজ্জা, আসবাবপত্র, কসমেটিকস ও পোশাকের দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে স্যানিটাইজারের কড়া গন্ধ।

মার্চের শেষদিক থেকে টানা কারফিউয়ে গৃহবন্দি থাকা অনেকেই নতুন এ স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। গত রোববার মক্কা ও এর আশেপাশের এলাকা ছাড়া সৌদি আরবের সব অংশে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিশেষত, রমজান মাস শুরু হওয়ায় কারফিউ শিথিলের এ সিদ্ধান্ত হয়।

বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় শপিং মল ও বিভিন্ন দোকানপাট খুললেও স্কুল, রেস্তোরাঁ, মসজিদ ও অন্যান্য যেসব স্থানে সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মানা কষ্টকর, সেগুলো আগের মতোই বন্ধ থাকছে। পাঁচ জনের বেশি জমায়েতেও আছে নিষেধাজ্ঞা।

“সীমিত আকারে(শপিংমল) খুলে দেওয়া হয়েছে। এটি খুবই ভাল হয়েছে, এর ফলে আমরা আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিতে পারব,” বলেছেন হায়াত মলে কেনাকাটা করতে যাওয়া এক তরুণ।

দেশটিতে অনলাইন কেনাবেচা তেমনভাবে শুরু না হওয়ায় ৩০ বছরের নিচের তরুণ-তরুণীদের কাছে শপিং মলগুলো বেশ জনপ্রিয়।

সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যা তিন কোটির মতো। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশেরই বয়স ৩০ এর নিচে। লকডাউন শিথিল হওয়ার পর বুধবার মলগুলোতে আসা ক্রেতাদের অধিকাংশই ছিল তরুণী।

“তারা সতর্কতামূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। সেখানে গ্লাভস ও মাস্ক আছে। মানুষজন যেন একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখে তা নিশ্চিত করতে চাইছে তারা,” বলেন হায়াত মলের আরেক ক্রেতা।

কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বানের পাশাপাশি শিশু, বৃদ্ধ ও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের বাসায় থাকতে নির্দেশনাও দিয়েছে।

রিয়াদের দক্ষিণাঞ্চলের বাথা এলাকার বিভিন্ন দোকান ও কাঁচাবাজারগুলোতে ব্যাপক ভিড় এবং স্বল্পসংখ্যক মানুষের মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস দেখা গেছে। সৌদি আরবে কাজ করতে যাওয়া নিম্নআয়ের বিদেশি শ্রমিকদের অনেকেই এ এলাকাটিতে থাকেন এবং কাজ করেন।

“আজ কিছু লাভ হতে পারে বলে আশা করছি। গত কয়েক সপ্তাহ কিছুই হয়নি, আমি আমার সঞ্চয়ের বেশিরভাগই খরচ করে ফেলেছি,” বলেছেন খুরশিদ। পাকিস্তানি এ ফল ও সবজি বিক্রেতা তার ছোট ঠেলাগাড়িতে করে রাস্তায় বসে সুপার মার্কেটের অর্ধেক দামে পণ্য বিক্রি করছেন।

“যত বেশি সম্ভব বিক্রি করতে চাই আমি। গত দুই মাস ধরে স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো অর্থই পাঠাতে পারিনি,” বলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য