দিনাজপুর সংবাদাতাঃ করোনাভাইরাসের কারণে পবিত্র মাহে রমজান মাসে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে চিরচেনা রূপ পাল্টে গেছে। ইফতারের পূর্বমুহূর্তে পৌরশহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে ইফতারের সেই পসরা আর নেই। বড় বড় হোটেল রেষ্টরেন্টন বিশেষ করে আশা, সাধানা,দীপ্ত ও মকবুল সামনে নেই বাহারি ইফতারির সমাহার। সবাই এখন নিজ ঘরে বসেই ইফতার তৈরি করচ্ছেন। তবে ইফতারি বিক্রি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

হোটেল- রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির হিসেবে শহরে প্রধান সড়ক থেকে অলিগলিতে ইফতার সামগ্রিক বিক্রি করেন প্রায় ৫০-৬০ টি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। গত এক মাস ধরে দোকান বন্ধ। রমজানে ইফতার বিক্রি নিয়ে আশাবাদী ছিলেন ব্যবসায়ীরা। উপজেলা প্রশাসনের অনুমিত না পাওয়ায় দোকান খুলতে পারছেন না। কেউই। এতে অভাব-অনটন বাড়ছে এসব ক্ষুদ্র বিক্রেতার। এদিকে বাইরের ইফতার বন্ধ থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে ফিরেছে উচ্চবিত্তদের মাঝে। বাইরের ভাজা খাবার বিক্রি না হওয়ায় খুশি গৃহিণীরাও। তবে কষ্ট বেড়েছে বিভিন্ন মেস ও ভাড়া বাসায় থাকা ব্যাচেলারদের। মসজিদগুলোতে ইফতার আয়োজন বন্ধ থাকায় কষ্ট বেড়েছে রিক্সাচালক ও নিম্নবিত্ত মানুষের।

পৌর শহরের কয়কটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ৪- থেকে ৫টি ইফতারির দোকান ছাড়া আর একটিও চোখে পড়েনি। দুপুর ১টার পর ফাঁকা সড়কে অলসভাবে হেঁটে বেড়াচ্ছন পৌর শহরের মানুষ। ইফতার সামগ্রী কিনতে ভিড় লেগে থাকা মোড়গুলো এখন ফাঁকা। সেখানে ভ্যানে করে কলা,তরমুজ ও পেয়ারা বিক্রি করছেন মৌসুমি বিক্রেতারা। ইফতার না পেয়ে অনেকে ফল নিয়ে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। পৌরশহরের বিজয় চত্বর এলাকা গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আজাদ বলেন, সব সময় বাসায় ইফতাররি বানায় শখের বসে বাইরে থেকেও কিনতাম এবার বাইরের ইফতার বন্ধ এটা শরীরের জন্য ভালো।

থানা পড়ার ওষুধ কোম্পানির একজন বলেন, বাইরে থেকে ইফতারি কিনে একসঙ্গে ইফতার করতাম। কিন্তু ইফতারের সব দোকান বন্ধ থাকায় এটা বুঝতে পারিনি। এজন্য প্রথম দিন শুধু চিড়া পানি ও ফল দিয়ে ইফতার করেছি। বীরগঞ্জ উপজেলা হোটেল রেস্তোরা শ্রমিক নেতা তারাপদ জানান, দীর্ঘ দিন হোটেল রেস্তোরা বন্ধ থাকার কারণে শ্রমিকদের চরম দুদিন যাচ্ছে। হোটেলে মহিলা কর্মচারীরা কাজ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে। তার অনেকে বলেন, একবার ৫কেজি চাল দু-কেজি আলু পেয়ে তাদের জীবনধারণ কষ্টকর।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের অনেক হোটেল মালিকরা বলেন, অন্তত এক বেলাও যদি আমাদের দোকান খুলতে অনুমিত দেওয়া হতো তাহলে আমাদের পরিবারগুলো বেঁচে যাবে। আমরা সামাজিক দূরত্বসহ সব নিয়মকানুন মেনেই কয়েক ঘণ্টার জন্য দোকান চালু রাখতে পারতাম। কিন্তু কেউ সারা দিচ্ছেনা। গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কথা বলে জানা গেছে,সবাই বলছেন, আর দু-একদিন দেখবে এর পর সবাই দোকান খুলবে। অভাবী মানুষকে কতদিন আটক রাখা যাবে। ক্ষুধা তো নিয়ম মানে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য