মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষায় ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ফল পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রায় ৫ লাখ চীনা র‌্যাপিড টেস্টিং কিটের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে ভারত।

দেশটির যে কয়টি রাজ্যে চীনের তৈরি এসব র‌্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহৃত হচ্ছিল কেন্দ্রীয় সরকার তাও ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এ র‌্যাপিড টেস্ট কিট দিয়ে সন্দেহভাজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে অ্যান্টিবডি আছে কিনা তা শনাক্ত করা হয়।

এ ধরনের কিট মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ফল দিতে পারায় কোনো সুনির্দিষ্ট এলাকায় নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রা কেমন কর্তৃপক্ষ তা দ্রুত নির্ধারণ করতে পারে, বলছে বিবিসি।

কিন্তু এ র‌্যাপিড টেস্টিং কিট করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে পারে না। যে কারণে অনেক বিজ্ঞানীই এ কিটের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তাদের সরবরাহ করা র‌্যাপিড টেস্টিং কিটগুলো ত্রুটিপূর্ণ, ভারতের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চীন।

“চীন চিকিৎসা সামগ্রী রপ্তানির ক্ষেত্রে এর গুণগত মানকে অগ্রাধিকার দেয়। পূর্বধারণার উপর ভিত্তি করে কিছু কিছু ব্যক্তি যেভাবে চীনের পণ্যকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলছেন, তা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অন্যায্য,” মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন ভারতে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র ঝি রং।

নতুন করোনাভাইরাস শনাক্তে পর্যাপ্ত পরীক্ষা হচ্ছে না, এ উদ্বেগ থেকে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্য দেশটির মেডিকেল রিসার্চ সেন্টারকে (আইসিএমআর) র‌্যাপিড টেস্টিং কিটে পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে চাপ দিয়ে আসছিল।

প্রথম দিকে অনাগ্রহী থাকলেও আইসিএমআর পরে দুটি চীনা কোম্পানি থেকে র‌্যাপিড টেস্টিং কিট আমদানির পথে বাধা তুলে নেয়।

বিবিসি জানায়, মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষার পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এ কিটগুলোর সঠিক ফল দেয়ার হার মাত্র ৫ শতাংশ বলে অভিযোগ করে।

কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে এমন রোগীদের ওপর পরীক্ষা চালানোর পরও অ্যান্টিবডির ক্ষেত্রে কিটগুলো ‘নেগেটিভ’ ফল দেখিয়েছে, বলছে তারা।

আইসিএমআরের মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাতেও এ কিটগুলো উৎরাতে পারেনি।

ভারত সরকার কিটগুলোর জন্য চড়া দাম দিচ্ছে ইঙ্গিত দিয়ে সোমবার দিল্লি হাই কোর্ট এসব কিটের সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দিলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে যায়।

কর্মকর্তারা পরে জানান, সরকার এ কিটগুলোর জন্য অগ্রিম অর্থ দেয়নি; যে কারণে ক্রয়াদেশ বাতিলে ‘সরকারের এক রুপিও লোকসান হয়নি’।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য