দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করোনা ভাইরাস থেকে নিজ শহরকে রক্ষার জন্য দিনাজপুরের ছেলে মতিউর রহমান বাসায় বসে তৈরি করে ফেলে জীবাণুনাশক স্প্রে গেট, যার নাম রেখেছে জীবাণুনাশক টানেল।

Institution of Diploma Engineers Bangladesh (IDEB) দিনাজপুর শাখার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জীবাণুনাশক টানেল তৈরি করতে সক্ষম হন যা আজ এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থাপন করা হয়।

আইডিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল বলেন, মতিউর রহমান প্রথম যখন আমাদের কাছে জীবাণুনাশক স্প্রে গেটের প্রস্তাব করেন আমরা রাজি হয়ে যাই, কিন্তু লকডাউনের কারণে ঢাকা থেকে সেন্সর নিয়ে আসা কঠিন ছিল, আমরা তবুও চেষ্ঠা করছি। তার অদম্য ইচ্ছা ও আমাদের সার্বিক সহোযোগিতায় আমরা জীবাণুনাশক স্প্রে গেটটির কাজ শেষ করেছি।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেন্সর আসলে টানেলটি অটো অনঅফ হবে। আশা করি এই জীবাণুনাশক টানেল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে দিনাজপুর সহ বাংলাদেশ কর্মক্ষেত্রে করোনা মুক্ত হবে- জীবাণুনাশক টানেলটির আবিষ্কারক মতিউর রহমান রিয়াত বলেন, জীবাণুনাশক টানেলটির ভিতরে কেউ প্রবেশ করলে তা অটোমেটিক স্প্রে শুরু করবে যার ফলে জীবানুনাশক অপচয় হওয়ার ভয় নেই।

প্রয়োজনীয় সহোযোগিতা পেলে এরপর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি, দিনাজপুর সদর হাসপাতালে একটি, রংপুর মেডিকেল কলেজ এ দুটি এবং ফুলবাড়ি পৌরসভায় একটি জীবাণুনাশক টানেল স্থাপনের কথা ভাবছি।

জীবাণুনাশক টানেলটি স্বল্প খরচে মাত্র ১০-১৫ হাজার টাকায় তৈরি করা সম্ভব। যা সোলার দিয়ে চালানো হয় যার ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেও কোন অসুবিধা হয়না।

দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ছেলে মতিউর রহমান রিয়াত।এলাকায় তিনি স্মার্ট হেলমেট বিজ্ঞানী নামেই পরিচিত। রিয়াত বোচাগঞ্জ উপজেলার প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক মোঃ তরিকুল ইসলামের ছেলে। কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ ২০১৭ সালে ডিপ্লোমা পড়বার সময় মতিউর রহমান আবিষ্কার করেন স্মার্ট হেলমেট।হেলমেট মাথায় না দিলে মোটর বাইকইঞ্জিন চালু হবে না।এরকম থিম থেকেই তৈরি করা হয় স্মার্ট হেলমেট।

গত রবিবার উক্ত জীবাণুনাশ টানেলটির শুভ উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ সরকার থেকে বিশ্বের গবেষকগণ বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।আমাদের জেলার ছেলে মতিউর রহমানের তৈরিকৃত জীবাণুনাশক টানেলটির সাহায্যে যারা বাইরে থেকে হাসপাতালে আসতেছেন তারা টানেলের মধ্যে প্রবেশ করলেই অটোমেটিক শরীরে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হবে।এতে করে বাইরে থেকে করোনা সহ অন্যান্য রোগ জীবাণু হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারবে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য