আপনি কি ডিনারের পর খিদে অনুভব করেন? এমনটা অনেকেরই হতে পারে, কিন্তু অনেকেই এর সঠিক কারণ জানেন না। আমরা যখন একসঙ্গে অনেক বেশি কার্বোহাইড্রেট খাই, তখন চিনির মতো তা খুব দ্রুত শরীর শুষে নেয়।

রাতে অফিস থেকে ফিরলেন, খুব খিদে পেয়েছে। আর তখন আপনার পছন্দের সব কিছুই পেট ভরে খেয়ে ফেললেন। কিন্তু মাঝরাতে আবার খিদে পেয়ে গেল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন বা অফিসের কাজ করে থাকেন তাঁদের মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যায়। সুস্থ জীবন রাখতে হলে প্রয়োজন সময়মত ঠিক খাওয়াদাওয়া। পুষ্টির সঙ্গে দরকার শরীরের প্রয়োজনীয় ভারসাম্য। না হলে শরীরে বাড়বে রোগের প্রকোপ। দুপুর হোক কিংবা রাত, ঠিক খাবার নির্বাচন এবং তা সময়মত বজায় রাখা খুবই জরুরি। তবে শুধু খাদ্য নির্বাচনই যথেষ্ট নয়।

অনেকে মাঝরাতে আইসক্রিম, মিষ্টি ইত্যাদি খেয়ে থাকে। কিন্তু এর কারণ কী?

সত্যটি হল, আপনি যখন রাতের বেলা খাবার খান তখন আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা তীব্রভাবে বেড়ে যায়। এর পর কিছু সময়ের পর আবার নেমে যায়। এর পর ঘুম ভাঙলে আপনি ক্ষুধার্ত বোধ করেন। জার্নাল নিউট্রিয়েন্টসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা কম স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে থাকি বা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করি।

যা আমাদের অগ্ন্যাশয়ের আরও বেশি করে ইনসুলিন তৈরি করে। দেহে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়লে রক্তে শর্করার মাত্রা নাটকীয়ভাবে হ্রাস করে। ফলে দেহে ক্লান্ত হয়ে যায়, কিন্তু সকালে উঠে অত্যন্ত ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন। তবে, সব ক্ষেত্রে এমন হবে তেমন নয়। তবে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আগে ২ গ্লাস জল খেয়ে নিন। এতে শরীর ভালো থাকবে।

তবে, রাতে শোওয়ার আগে যেটি করতে বারণ করা হয়, সেটি হল ধূমপান। ডিনারের পর ধূমপান করা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। কারণ হিসাবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর ফলে সিগারেট বা বিড়ির মধ্যে থাকা নিকোটিন আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে আক্রান্ত করে। বিশেষ করে রাতের খাবারের পর একদমই চা খাবেন না। কারণ, চায়ের মধ্যে রয়েছে ট্যানিন, যা শরীরে মধ্যে থাকা আয়রনের সঙ্গে মিশতে পারে না। ফলে হজম শক্তিকে ঠিক মত কাজ করতে দেয় না। রাতে ডিনারের ২ ঘণ্টা পর শুতে যান। এতে শরীর ভালো থাকবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য