বিশ্বজুড়ে মহামারী সৃষ্টি করা নতুন করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ৭ সপ্তাহ আগে জারি করা বিধিনিষেধ শিথিল করার পরিকল্পনা করেছে ইতালি।

মধ্য-মার্চের পর থেকে রোববার দেশটিতে দৈনিক মৃত্যুর সর্বনিম্ন রেকর্ড হয়েছে, এ পরিস্থিতেই দেশটির কর্তৃপক্ষ লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; জানিয়েছে বিবিসি।

৪ মে থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কোন্তে। অল্প অল্প করে লোকজনকে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের দেখতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে, তবে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে।

পার্কগুলোও খুলে দেওয়া হবে, কিন্তু স্কুলগুলোতে সেপ্টেম্বরের আগে ক্লাস শুরু হবে না।

টেলিভিশনে দেওয়া ঘোষণায় কোন্তে করোনাভাইরাস লকডাউন শিথিলের ‘দ্বিতীয় পর্ব’ শুরুর রূপরেখা তুলে ধরেন।

এ পর্বে, লোকজনকে তাদের নিজ অঞ্চলের মধ্যে ঘোরাফেরার অনুমতি দেওয়া হবে, কিন্তু তারা অন্য অঞ্চলে যেতে পারবেন না।

শেষকৃত্য আবার শুরু হবে, কিন্তু সর্বোচ্চ ১৫ জন উপস্থিত থাকতে পারবেন এবং উন্মুক্ত স্থানে করাটাই বাঞ্ছনীয় হবে।

একজন ক্রীড়াবিদ ব্যক্তিগতভাবে তার প্রশিক্ষণ শুরু করতে পারবেন এবং লোকজন বাড়ির আশপাশ ছাড়াও বিস্তৃত পরিসরে খেলাধুলা করতে পারবেন।

৪ মে থেকে খাবার বিক্রির জন্য (এখনকার মতো শুধু সরবরাহ নয়) বার ও রেস্তোরাঁগুলো খোলা হবে এবং অবশ্যই ক্রেতারা খাবার কিনে বাড়িতে অথবা অফিসে নিয়ে খাবে।

১ জুন থেকে সেলুন, বিউটি পার্লার, বার ও রেস্তোরাঁর পুরোপুরি খোলা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রথম পর্বে বিধিনিষেধ শিথিলের আওতায় ইতোমধ্যে খোলা মুদি দোকানসহ অন্যান্য সব খুচরা পণ্যের দোকান ১৮ মে-তে খোলা যাবে, পাশাপাশি জাদুঘর ও লাইব্রেরিও খোলা যাবে।

এ দিন থেকে ক্রীড়া দলগুলোও দলগত প্রশিক্ষণ শুরু করতে পারবে।

আসছে মাসগুলোতেও সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে চলতে হবে বলে জোর দিয়েছেন কোন্তে এবং গির্জায় উপাসনা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন। লোকজনকে পরস্পরের মধ্যে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গত ৯ মার্চ থেকে ইতালিয়ানরা দেশজুড়ে জারি করা ঘরবন্দি দশায় আছে। প্রত্যেককেই তাদের বাড়ির দরজা থেকে কয়েকটি রাস্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

১৪ এপ্রিল বিধিনিষেধ শিথিলের প্রথম পর্বে বইয়ের দোকান, ড্রাই ক্লিনার্স ও স্টেশনারির মতো ছোট কিছু দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। একসঙ্গে অনেক ক্রেতার সমাগম হয়না বলে এসব দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়।

এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর সংক্রমণের সংখ্যা যদি ফের বাড়তে থাকে তবে সরকার ফের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিবিসি প্রতিনিধি।

রোববার ইতালিতে কোভিড-১৯ এ ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। ১৪ মাচের পর থেকে এটিই দৈনিক মৃত্যুর সর্বনিম্ন সংখ্যা। দেশটিতে মৃতের মোট সংখ্যা ২৬ হাজার ৬৪৪, যা ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ইতালিতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৭৫ জন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য