দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে উদ্বেগ -উৎকণ্ঠায় নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষেরা। রিকশা, ভ্যান চালক,ব্যাটারিচালিত অটো চালক,পাগলু চালক,দিনমজুর, হোটেল কর্মচারী, রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, এবং ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অনেক কষ্টে কাটাচ্ছে তাদের জীবন।

সরকারি -বেসরকারিভাবে কেউ কেউ খাদ্যসামগ্রী যা পেয়েছেন, তাতে তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মিটছে না বলে অনেকেই আক্ষেপ করছেন। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে লকডাউনের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ উপার্জনহীন অবস্থায় হাত যা ছিল তাও শেষে। এখনই উপার্জনের ব্যবস্থা করতে না পারলে জীবনধাণ নিয়ে অনাগত দুর্দশার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তারা।

তাদের চোখে মুখে এখন দুরচিন্তার ছাপ। বীরগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কমারপাড়ার বিরঞ্জন সরকার মুহরি বলেন, দীর্ঘ একমাস থেকে বাড়ীতে বসে আছি, এখন পর্যন্ত কোথাও থেকে সহায়তা পাননি তিনি। ১০ টাকার চালের কার্ডের জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলার মুক্তার হোসেনের সাথে মুঠোফোনে অনেক বার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, কাউন্সিলার মুক্তা হোসেন রাতে আধারে দাসপাড়ায় কার্ড পৌছে দিচ্ছেন।

পৌরশহরের বিজয় চত্বরে যাত্রীর জন্য অপেক্ষায় থাকা রিক্সা চালক কুদ্দুস বলেন, রোজগারের আশায় রিক্সা নিয়ে বসে আছি। কিন্তু যাত্রী নাই। সাব-রেজিস্টার অফিসের সামনে পান বিক্রেতা মালেক যান তার ছোট পানের দোলানটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রমজি আলম তুলে নিয়ে গেছে। কয়েকবার যোগাযোগ করেও সে ব্যথ হয়েছেন।

একই এলাকার চায়ের দোকানদার নজরুল ইসলাম বলেন, গোপনে দোকান করার সময় নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইয়ামিন হোসেন তার দোকানের রক্ষিত ২টি গ্যাস সিলিন্ডার ভ্যান যোগে নিয়ে গেছে। অনেক বার উপজেলা পরিষদে গিয়ে স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে।

তিনি জানান, তার গ্যাস সিলিন্ডার ২টি পৌর মেয়র মো: মোশারফ হোসেন বাবুলের কাছে রক্ষিত রয়েছে। নজরুল মেয়রের কাছে কয়েকবার সিলিন্ডার ২টি নিতে গেলে মেয়র জানান, তোমার গ্যাস সিলিন্ডার এখন দেওয়া যাবে না। নজরুল নিরুপায় হয়ে এখন হাটে- বাজারে কলা বিক্রি করে তার জীবনধাণ করতে গিয়ে সেও অনেক চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

অনেকে রিক্সা চালক জানান- বর্তমান বাজারে দৈনিক সংসারে ৩০০/৪০০ টাকা খরচ হচ্ছে। এখন দৈনিক রোজগার হচ্ছে ১০০-২০০ টাকা। এরমধ্যে রিক্সার মালিককে জমা দিতে হচ্ছে ১০০ টাকা। এই অবস্থায় তাদের সংসার চালাতে অনেক কষ্ট পেতে হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য