আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট থেকেঃ বিশেষ ব্যবস্থায় বুড়িমারীতে পাটবীজ নিয়ে এসে আটকে পড়েছেন ৬১ জন ভারতীয় ট্রাক চালক। বাংলাদেশ থেকে তাদের ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতীয় দূতাবাসকে চিঠি পাঠালেও সারাও দেয়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। যার ফলে এসব ট্রাক চালকরা করোনা ভাইরাসের কারণে পরিবার-পরিজনের চিন্তায় দিশোহারা হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে শনিবার (২৫এপ্রিল) দুপুর ১টায় লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরের দেয়াল ঘেরা চত্বরে দেখা গেছে, একটি ট্রাকে কেবিনে বসে নামাজ শেষে দুই হাত তুলে অঝোরে কেঁদে কেঁদে প্রার্থনা করছেন। তাঁর নাম ইজাহার আলী। বাড়ি ভারতের বিহার রাজ্যের মতিহার জেলার পশ্চিম চম্পারণ। নামাজ শেষে তার কাছে জানা গেল, তাদের দুর্দশার কথা।

অঝোরে কেঁদে কেঁদে তিনি জানান, স্ত্রীকে একদিনের কথা বলে মহাজনের গাড়ীতে পাটবীজ নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন।ট্রাক খালি করে চেকপোস্টে গেলেই গাড়ী গুলো দেয় আটকে।লকডাউনের কারণে ডুকতে দেওয়া হয়নি ভারতে।বাড়িতে তাঁর একমাত্র ছেলে ও স্ত্রী থাকে।সেদিন রাতেই খবর এলো স্ত্রী’র কোমর ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি করেন তার ছেলে।চিকিৎসার জন্য ধারদেনা করে মায়ের ঔষুধ কিনে দিযেছেন। কিন্তু ঘরে খাবার নেই। ইজাহার আলী বলেন, আমরা মুসলিম, রমজান মাসে তারাবি নামাজ না হলে রোজা রাখা হয় না। তাহলে আমারা কি নামাজ-রোজা সব বন্ধ করে দিবো ।না খেয়ে মরে যাবো। দেশের মুখ দেখবো না।

তার মত আরো ৬১ জন ট্রাকচালক এখন আটকে আছেন লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে। গত ৪ এপ্রিল বিশেষ অবস্থায় পাটবীজ নিয়ে এ দেশে এসেছিলেন। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানিয়েছে বিষয়টি জানিয়েও কিছুই হচ্ছে না। ফলে বুড়িমারী স্থলবন্দর চত্বরে ২২ দিন ধরে ট্রাকে খাচ্ছেন, আর মশার কামড়ে ঘুমিয়ে দিন পার করছেন।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর গত ২২ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে আমদানিকৃত ৬১টি পাট বীজের ট্রাক আটকা পড়ে ভারতে। এরপর অজ্ঞাত কারণে আরও ৩ দিন বন্ধ থাকার পর বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ৪এপ্রিল ট্রাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ওই দিনই ট্রাক খালি করে সেগুলো ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ফেরার সময় বাঁধা দেয় ভারতের চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তখন থেকে ৬১টি ভারতীয় ট্রাক আটকে আছে বুড়িমারী স্থলবন্দরে ।

ভারতের ট্রাকচালক আলতাফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে সরকার অনেক চেষ্টা করছে আমাদের দেশে পাঠানোর জন্য । কিন্তু ভারত সরকার আমাদের দিকে দেখছেন না। আমাদের পরিবারের কথা ভাবছেন না। মমতা দিদি আমাদের দিকে তাকালে আমারা দেশে ফিরতে পারি। এভাবে থাকলে আমরাসহ আমাদের পরিবার মরে যাবে। দ্রুত আমাদের দেশে ফিরে নিন।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ভারতীয় দূতাবাস ও কোচবিহারের ডিএমের সাথে একাধিকবার যোগযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাদের কোন সারা নেই। তাই করোনা পরিস্থিতির কারণে তাঁদের রাখা হয়েছে স্থলবন্দরের ইয়ার্ডে। তাদের দেশে পাঠানোর জন্য দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য