দিনাজপুর সংবাদাতাঃ গতকাল সকাল ৭টা থেকে ১০টা। কোনো ক্রেতাই দোকানে উঁকি দিচ্ছেন না। এই বুঝি ক্রেতা আসবেন! প্লাস্টিকের খাঁচায় ২০ কেজি করলা নিয়ে কাঠফাটা রোদে বসে আছেন সবজি ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন। আর সেখানে মোফাজ্জল হোসেনের মত অনেক ব্যবসায়ী কেউবা সবজি আবার কেউবা রকমারি শাক নিয়ে বসে আছেন। মাঠের মাঝখানে কয়েক ডজন শাকের আঁটি ও কেজি দশেক বেগুন-পটল নিয়ে বসে আছেন পঞ্চাষোর্ধ্ব আবুল হোসেন। ক্রেতাকে ডাকছেন, ভাই শাক নেন। ক্রেতা একবার তাকিয়ে পাশের দোকানে চলে গেলেন।

দৃশ্যটি দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্তের কাটলা কলেজ মাঠে স্থানান্তরিত সবজির বাজারের। গত শনিবার সারাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সতর্কতায় স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে কাটলাহাট থেকে সবজি বাজারটি কাটলা কলেজ মাঠে স্থানান্তর করা হয়। আর এতেই ক্রেতা সংকটে পড়েন সবজি ব্যবসায়ীরা। প্রধান বাজার থেকে সবজি বাজারটি প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া ক্রেতারা শাকসবজি কিনতে কলেজ মাঠে যাচ্ছেন না।

কারণ জানতে চাইলে সবজি ব্যবসায়ী ফয়জুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার থেকে কাটলাহাটে গ্রোথ সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ায় সবজি বাজার স্থানান্তর হয়। ফলে দোকানঘর ভেঙে বাজারের পূর্বপাশে নতুন করে ৭ হাজার টাকা খরচ করে দোকানঘর তৈরি করেছি। পরে, গ্রোথ সেন্টার তৈরির কাজ স্থগিত হওয়ায় আবার দোকান নিয়ে আগের জায়গায় ফিরে আসি। দেশে করোনাভাইরাসের কারণে গত সপ্তাহে আবার সেই দোকান ফেলে এখন কাটলা কলেজ মাঠে প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ করে নতুন দোকানঘর তৈরি করেছি। এখানে যে বিক্রি হচ্ছে তাতে ব্যবসার আসল পুঁজি খুঁজে পাচ্ছি না।

কাটলাহাটের সবজির বড় বড় ব্যবসায়ীরা প্রধান বাজারের পূর্বপাশে ৩ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ করে তৈরি করা দোকান ফেলে কলেজ বাজারে আবার নতুন দোকান দিয়েছেন। যদিও সকলকেই ফেলে যাওয়া ওই দোকানের জায়গার মালিককে মাসিক ভাড়া দিতে হয়। এ লোকসানে অনেকে সবজি ব্যবসা বাদ দিয়ে অন্য ব্যবসা ধরেছেন।

এসমস্যাটি বিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের অধিকাংশ সবজি ব্যবসায়ীর। একই সমস্যায় পড়েছেন বিরামপুর নতুনবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ, আশরাফুল ইসলাম, মজনুর রহমান, মাহাবুর রহমান, লিয়াকত আলী, কেটরাহাটের আব্দুল মালেক, গিয়াস উদ্দিন, কাটলাহাটের ইস্তামুল হক, রজিব উদ্দিন, নিরঞ্জন রায়, নূর আলম ও রশিদুলসহ অনেকেই।

কাটলাহাট-বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. কোবাদ হোসেন বলেন, কাটলাবাজার থেকে সবজি বাজার স্থানান্তর করায় ব্যবসায়ীদের সাথে ক্রেতারাও পড়েছেন বিপাকে। মাছের বাজার থেকে সবজির বাজারের দূরত্ব প্রায় ১ কিলোমিটার হওয়ায় অনেকে ক্রেতা পণ্য কিনতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এছাড়া বাজারের সময়সীমা দুপুর ১টা পর্যন্ত করায় কেনাকাটাও কম হচ্ছে। এমতাবস্থায় ব্যবসায়ীদেরকে যদি সরকার থেকে কোনো প্রণোদনা দেয়া হয় তাহলে তাদের অনেক উপকার হবে।

বাজারের এ পরিস্থিতে সবজি ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে ক্রেতার অভাবে সবজি নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে আগামীতে অনেক ব্যবসায়ী তাদের পুঁজি হারাবে। তারা সরকারের নিকট দাবি করছেন, করোনাভাইরাস সমস্যায় সবজি ব্যবসায় যে লোকসান হচ্ছে সেটি কাটিয়ে তোলার জন্য সরকার থেকে সবজি ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দেয়া দরকার।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. কাওসার আলী বলেন, “করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রশাসনিক নির্দেশনায় বাজার ব্যবস্থা সীমিত করা হয়েছে। এতে উপজেলার সবজি ব্যবসায়ীদের যে লোকসান হচ্ছে তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সরকার থেকে আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার কোনো নির্দেশনা আসেনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য