দিনাজপুর সংবাদাতাঃ করোনা মহামারিতে দিনাজপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হলেও দৃশ্যপট পাল্টায়নি। দিনের অগ্রভাগে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌরশহরে জনসমাগম রয়েই গেছে। ওষুধ কেনা ও বাজার করাসহ নানা অজুহাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর চোখে ফাঁকি দিয়ে মানুষ শহরে প্রবেশ করছে।

সেইসাথে শহরে ঢুকছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মোটরসাইকেল ও পাগলু, অটোরিকশা, চ্যার্জার ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন। সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউ। (কোভিড-১৯) করোনা পরিস্থিতি দেশে মহামারিতে রূপ নেওয়ায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মোঃ মাহামুদুল আলম গত ১৫ এপ্রিল রাত ১০ থেকে লকডাউন ঘোষণা করেন। গণবিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়েছে লকডাউন চলাকালে এ জেলায় জনসাধারণের প্রবেশ ও মহাসড়ক ও রেলপথে অন্য কোন জেলা বা উপজেলা হতে কেউ এ জেলায় প্রবেশ কিংবা গমন করতে পারবেন না। পাশাপাশি জেলার অভ্যন্তরে অন্ত: জেলা যাতায়াতের ক্ষেত্রেও একই ধরণের নিষেধজ্ঞা বলবত থাকবে।

তবে জরুরি পরিবহন, চিকিৎসাসেবা, কৃষি পণ্য সংগ্রহ, খাদ্য সরবরাহ ও সংগ্রহ, বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন, ইন্টারনেট, ব্যাংকিং সেবা,ওষুধ শিল্প সংশ্লিষ্ট যানবাহন, সংবাদপত্র যানবাহন ইত্যাদি এবং সরকারের পক্ষ থেকে সময়ে সময়ে ঘোষিত অন্যান্য জরুরী পরিষেবা লকডাউনের আওতায় বহির্ভূত থাকবে। গণবিজ্ঞাপ্তির শেষে বলা হয়েছে এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কে শোনে, কার কথা। লকডাউন সত্ত্বেও উল্টো ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে শহরে মানুষ ও যানবাহনের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যায়। উৎসবের আমেজে মানুষ অহেতুক ঘোরাঘুরি সহ বাজার করতে দেখা যায়।

করোনার মধ্যে সামাজিক দূরত্ব মানার বলাই ছিল না। বিশেষ করে সকাল ৮টার দিকে পৌরশহরের মহাসড়ক, দৈনিক বাজার, বলাকা মোড়ে মানুষের সমাগম বেশি দেখা গেছে। এরপর স্থানাস্তরিত অস্থায়ী বাজার হাটখোলায় বহু মানুষকে ভিড় করতে দেখা যায়। কেউ সামাজিক দূরত্ব মানছেনা। বাজার করতেও দেখা যায়। এতে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপর থাকলেও দিনের অগ্রভাগে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না।

তবে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতায় দুপুরের দিকে ফাঁকা হয়ে যায় শহর। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত ছিল। স্বাস্থ্য কর্মীরা বলছেন, সামনে আরও কঠিন দিন আসছে। এখন করোনা মহামারি চলছে। অনেকে বলছেন, বীরগঞ্জও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘর থেকে কাউকে বের হওয়া উচিৎ হবে না। তাই অতিপ্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। বের হলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হবে। কিন্তু করোনার ঝুঁকি মাথায় নিয়েই এখন প্রতিদিনই অপ্রয়োজনে বিপুল সংখ্যক মানুষ পৌর শহরে ঢুকছে। লকডাউন সত্ত্বেও গতকালও দিনের অগ্রভাগে শহরের অভ্যন্তরে বিপুল জনসমাগম ঘটে।

সেইসাথে প্রবেশ করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, পাগলু,নসিমন, করিম,ব্যাটারিচালিত ভ্যান সহ অন্যান্য যানবাহন। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অপ্রয়োজনে বহু মানুষ শহরের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। এই ভিড় থাকে বেলা ১টা পর্যন্ত। গত কয়েকদিন ধরে শহরে এ অবস্থা বিরাজ করেছে।শহর মুখি বিপুল সংখ্যক মানুষকে ঘরে ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বীরগঞ্জ সার্কেল) মোঃ আব্দুল ওয়ারেস বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ কিনতে, বাজার করতে বা মুদি দোকানে যাওয়াসহ অন্যান্য জরুরি কাজে বাড়ি থেকে বের হতে বাঁধা নেই। কিন্তু শহরে ঢুকে ভিড় করে তারপর শুধু কৌতুহল বশত: শহরে ঢুকে ভিড় করে করোনা ঝুঁকি বাড়াচ্ছ। বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মতিন প্রধান বলেন,প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে শহরে আসে ঘুরতে দেখা যায় মানুষকে।

তিনি আরও বলেন,মানুষ যদি সচেতন না হয়, তাহলে সামনে আরও বড় বিপদ রয়েছে। নিজেদের জীবন, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের জীবন বাঁচাতে চাইলে ঘরে থাকতে হবে।শহরে বা পাড়া মহল্লায় বসে অহেতুক ঘোরাঘুরি বা আড্ডা না দিয়ে ঘরে থাকুন তাহলে সবারই মঙ্গল হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য