বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদাতাঃ চরম অর্থ সংকটে পড়েছে দিনাজপুর জেলার সর্ববৃহৎ ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান সেতাবগঞ্জ চিনিকল লিঃ। ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে চিনিকলের মেইন ফটকের সামনে ৪মাসের বেতন ভাতার দাবীতে বিক্ষোপ করেছে শ্রমিক/কর্মচারীরা। এবিষয়ে চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রশান্ত কুমার চৌহান, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াম আলী সরকার জানিয়েছেন গত ৪মাস ধরে মিলে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী/ কর্মকর্তাগণ বেতন ভাতা না পেয়ে পরিবার জরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

আখচাষীদের পাওনা, মজুরী কমিশনের এরিয়া বিল, শ্রমিক কর্মচারীদের ৪মাসের বেতন ভাতাসহ মোট ৩১ কোটি টাকা মিলটির কাছে বকেয়া রয়েছে। বেতন ভাতা পাওয়ার বিষয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের আমরা তেমন কোন সহযোগিতা করতে পারছি না। যে কারণে প্রতিনিয়ত শ্রমিক কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদেরকে। শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বেতন ভাতা পরিশোধের বিষয়ে বার বার চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকে চাপ দিয়েও আমরা কোন ফল পাচ্ছিনা।

আখচাষী সমিতির সভাপতি মোঃ ফয়জুল আলম চৌধুরী বাবলু সহ শ্রমিক নেতারা বেতন ভাতা পরিশোধের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধের বিষয়ে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.এইচ.এম জাকির হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধের বিষয়ে ঢাকা সদরদপ্তরে প্রতিনিয়ত লিখিত ভাবে জানানোর পরও ঢাকা সদরদপ্তর এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি।

মিলের গোডাউনে ২০৩৩. ২০ মেটিক টন চিনি ও ৩২৭ মেটিক টন চিটাগুড় মজুদ রয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকার ও বেশী। চিনি বিক্রি করে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধের উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছিল কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ ঘরে বন্দি থাকায় সেই রকম ভাবে চিনি বিক্রি হচ্ছেনা।

যেটুকু চিনি বিক্রি হচ্ছে তাদিয়ে দুই একজন শ্রমিকেরও বেতন ভাদা দেয়া যাচ্ছেনা। বর্তমানে মিলটি চরম অর্থ সংকটে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে খুব সিঘ্রই শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধের বিষয়ে ঢাকা সদরদপ্তর থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য