জাকির হোসেন, সৈয়দপুর নীলফামারী থেকেঃ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের সাহেবপাড়া বাঁশবাড়ী হানিফ মোড় এবং তেুঁতুল গাছ মোড়ে (১৩ ও ১৪ নং ওয়ার্ডে) ত্রানের দাবীতে রাস্তা অবরোধকারীদের সাথে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনগণকে অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য বলায় তারা পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করাসহ স্থানীয় একটি বাড়িতে হামলা করে ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এতে পুরো এলাকাজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

জানা যায়, ত্রানের দাবীতে পৌরসভার ১৩ ও ১৪ নং ওয়ার্ডের মানুষ মিস্ত্রিপাড়া থেকে শহীদ জহুরুল হক রোডগামী রাস্তায় হানিফ মোড় ও তেুঁতুল গাছ এলাকায় অবরোধ করে। খবর পেয়ে ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর হোসেন ও ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদ হোসেন লাড্ডান এসে উপস্থিত হলে বিক্ষুব্ধ জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা বোঝানোর চেষ্টা করলেও তাতে কোন কাজ না হওয়ায় পরে সৈয়দপুর থানা পুলিশ এসে রাস্তার অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য অনুরোধ জানায়। এসময় সৈয়দপুর পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জোবায়দুর রহমান শাহিন, যুবনেতা সোহেল আক্তার উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন।

অবরোধকারী অনেকে জানান, এখ পর্যন্ত আমরা কোন ত্রাণ পাইনি। অথচ লকডাউনে সব কাজ কর্ম বন্ধ আমাদের। কাজে যেতে পারতেছি না বলে বাসায় সন্তানদের দু’বেলা খাওয়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি।

তাদের কথার প্রেক্ষিতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জানান, ইতোমধ্যে সরকারীভাবে যে পরিমান ত্রাণ এসেছে তা বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া পৌর পরিষদের নিজস্ব তহবিল, মরহুম জাওয়াদুল হক ফাউন্ডেশন, রেলওয়ে শ্রমিকলীগ, মরহুম কমিশনার সামসুল হক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করেছে। কাউন্সিলরদ্বয় আগামীতে তাদের আরও ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।

এতেও অবরোধকারীরা শান্ত না হওয়ায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে সমবেত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে চাইলে তারা ক্ষেপে গিয়ে চড়াও হয় পুলিশের উপর। এতে পুলিশ বল প্রয়োগে গেলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যায়। অবরোধকারীরে সম্মিলিতভাবে পুলিশের উপর ইট পাথর নিক্ষেপ করে। অনেকে লাটি সোটা হাতে নিয়েও চড়াও হয়। পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থন ত্যাগ করে চলে যায়। তবে অবস্থা পর্যবেক্ষনের জন্য কয়েকজন পুলিশ সদস্য একটু দূরত্ব অবস্থান করতে থাকেন। এক পর্যায়ে অবরোধকারীরা ওই পুলিশ সদস্যদের মারতে উদ্ধত হলে তারা দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দা সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক (গনিত) শাফিকুল ইসলাম ফিরোজের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

এই খবর পেয়ে আরও পুলিশ সদস্যসহ সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোখছেদুল মোমিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এতে অবরোধকারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে।

এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মোখছেদুল মোমিন বলেন, ইতোমধ্যে অনেককেই ত্রাণ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ত্রাণ দেয়া হবে। আগামী দুই একদিনের মধ্যে ১ হাজার ৫ জনকে দেয়া হবে। রিক্সা-ভ্যান-ইজিবাইক চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদারসহ নিন্মমধ্যবিত্ত প্রায় ২৬ হাজার মানুষের তালিকা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। সেই তালিকার লোকজনও সহযোগিতা পাবেন। কিন্তু সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে এভাবে শারীরিক দূরত্ব লঙ্ঘন করলে ত্রাণ দেয়া বন্ধ করে প্রশাসনকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই যদি নিয়োজিত হতে হয় তাহলে কিভাবে হবে।

তাই আপনার রাস্তায় নেমে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তখন আপনারাই আরও বেশি অসুবিধায় পড়বেন। এজন্য সরকার তথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি অবরোধকারীদের প্রতি ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান।

পরে তার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে অবরোধকারীরা ঘরে ফিরে যায়। কিন্তু প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দ চলে যাওয়ার পর পুলিশকে আশ্রয় দেয়ায় প্রভাষক শফিকুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায় কতিপয় দুর্বৃত্ত। এসময় তারা ওই বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙ্চুর করে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। খবর পেয়ে পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জোবায়দুর রহমান শাহিন ছুটে আসলে দূর্বত্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান প্রভাষক শাফিকুল ইসলাম ফিরোজ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য