রংপুর জেলায় পনের দিনে ১০ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সাত পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বয়সে দু’জন বৃদ্ধ ছাড়া বেশির ভাগই ৩০-৪৫ বছর বয়সী।

করোনা আক্রান্ত এই ১০ জনের মধ্যে পাঁচজন সরাসরি স্বাস্থ্য সেবা/চিকিৎসা সেবার জড়িত। এদের মধ্যে দুইজন মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের চিকিৎসক ও একজন কর্মচারী। এছাড়াও রংপুর নগরীর বেসরকারি একটি ক্লিনিকের একজন পরিচালক ও একজন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নারী কর্মচারী রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগ পুরুষ এবং বয়সে যুবক। তাদের মধ্যে নয়জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীদের বাসাসহ বেশি কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ ও বহির্গমন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ডা. হিরম্ব কুমার জানান, রংপুর জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় বগুড়াতে। তিনি রংপুর সদরের সদ্যপুষ্করিণী ইউনিয়নের বাসিন্দা। আক্রান্ত ওই বৃদ্ধ ব্যক্তি বগুড়ার একটি হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

ওই বৃদ্ধের আক্রান্ত হবার দুইদিন পর (৮ এপ্রিল, বুধবার) মিঠাপুকুরের বালারহাটে এক তরুণের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এর আট দিন পর বদরগঞ্জ উপজেলার বৈরামপুরে এক যুবক এবং পরের দিনও ওই উপজেলার আউলিয়াগঞ্জের তাবলিগ জামাত ফেরত এক বৃদ্ধ করোনা আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত হন। এরপর ১৮ এপ্রিল হতে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিনে আরো ৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

রংপুরে দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার বিষয়কে খারাপ লক্ষণ দাবি করেন সিভিল সার্জন।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ভালো লক্ষণ নয়। এই মহামারিতে আমাদের উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। সচেতনতা ও সতর্কতায় কোন ঘাটতি রাখা যাবে না। জনসমাগম এড়িয়ে নিরাপদ সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বিধির প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য