একটা কথা সবারই জানা, আমরা যা খাই, তারই প্রভাব পড়ে চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্যে। তাই লকডাউন চলাকালেও পুষ্টিকর খাবার খান, যথেষ্ট বিশ্রাম নিন। হাঁটাচলা, ঘরের কাজে ব্যস্ত রাখুন নিজেকে। পারলে ব্যায়াম করুন খানিকটা। তার সঙ্গে যদি স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, তা হলে আর কোনও চিন্তা থাকবে না – সারা বছরই স্বাস্থ্যে ঝলমল করবে আপনার ত্বক এবং চুল।

কিন্তু যাঁরা নিয়মিত পার্লার যেতে বা রূপচর্চা করতে অভ্যস্ত, তাঁরা পড়েছেন মহা মুশকিলে। হাতের কাছে যত দামী ক্রিম বা শ্যাম্পুই থাক না কেন, তা শেষ হবেই একদিন। তার আগে থেকেই আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। এমন জিনিসপত্র ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠুন যা যে কোনও সময়েই মিলবে। আমাদের রান্নাঘরেই এমন অনেক উপাদান থাকে যা খাওয়ার পাশাপাশি ফেস বা হেয়ার প্যাকের উপাদান হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। মনে রাখবেন, এক প্রজন্ম আগেও কিন্তু বাড়ির মা-কাকিমারা বোতলবন্দি হাজারো উপকরণ বা পার্লারের ভরসায় না থেকেও সৌন্দর্যচর্চা করতেন ঘরোয়া উপকরণের সাহায্যেই।

ওটস
ওটস খেলেই তুরন্ত ওজন কমে, এমন একটা ধারণা জনমানসে জাঁকিয়ে বসেছে। সুতরাং প্রায় প্রতিটি বাঙালি হেঁশেলেই তার দেখা মেলে ইদানীং। ওটসে প্রোটিন, ভিটামিন বি ও বায়োটিন থাকে, তাই ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যরক্ষায় বা যে কোনও চুলকানির সমস্যায় তা দারুণ কাজে দেয়। তবে ব্যবহার করার আগেয় অতি অবশ্যই ওটসের মিহি গুঁড়ো করে নেবেন। যাঁদের মাথা খুব ঘামে এবং চুলের গোড়ায় বিচ্ছিরি দুর্গন্ধ হয়, তাঁরা সামান্য একটু ওটসের পাউডার ছড়িয়ে চুল আঁচড়ে নিন, কোনও সমস্যা হবে না। ওটমিলের গুঁড়ো সামান্য দুধে ভিজিয়ে স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায় পুরো শরীরে।

আমন্ড/ আমন্ড তেল
গোটা আমন্ড খেতে পারলে তো খুবই ভালো হয়। আমন্ড তেল সামান্য পরিমাণে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন, স্নানের পর ত্বকে লাগান, ফারাকটা আপনার নিজের চোখেই ধরা পড়বে সবচেয়ে বেশি।

নারকেল তেল
ত্বকের আর্দ্রতাই বলুন বা স্কিন সারফেস লিপিড লেভেল বজায় রাখা — দু’দিক থেকেই দারুণ কাজের নারকেল তেল। চুলের গভীরে পৌঁছে তা চুল নরম রাখে।

মধু
প্রাকৃতিক ময়েশ্চরাইজার হিসেবে মধু অতুলনীয়। মধু-লেবু-নারকেল তেলের মিশ্রণ ত্বক আর চুল অগ্যের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

টোম্যাটো
টোম্যাটোয় লাইকোপিন নামে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। তা ত্বক আর মাথার তালুর পিএইচ ব্যালান্স বজায় রাখে। তাই হেয়ার ও ফেস প্যাকেও টোম্যাটো ব্যবহার করুন। তবে যাঁদের ত্বক খুব স্পর্শকাতর, তাঁরা সরাসরি টোম্যাটো ব্যবহার করার আগে একবার প্যাচ টেস্ট করে নেবেন। – ফেমিনা

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য