আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করায় দু’দেশের মধ্যকার উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতেও সম্প্রতি তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আমেরিকা ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করায় এবং আন্তর্জাতিক পানিসীমায় ইরান বিরোধী জোট গঠনের চেষ্টা করায় ভূ-কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটবার্তায়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র বোট যদি পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য কোনো রকমের বাধাবিঘ্ন সৃষ্টি করে তাহলে সেগুলোকে ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন। গত ১৫ এপ্রিল মার্কিন পঞ্চম নৌ বহরের কমান্ডার এক বিবৃতিতে দাবি করেছিল, পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের কাছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র বোটগুলো বিপজ্জনক ও উস্কানিমূলক তৎপরতা চালিয়েছে। বিবৃতিতে এও দাবি করা হয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো হেলিকপ্টার সহযোগে যখন পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক পানিসীমায় মহড়া চালাচ্ছিল ঠিক তখন ইরানি বোটগুলো বিপজ্জনকভাবে আমাদের খুব কাছে চলে এসেছিল।

আমেরিকার এ অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসি বলেছে, আমেরিকার উচিত জাহাজ চলাচলের নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক পানিসীমা মেনে চলা এবং যেকোনো মিথ্যাচার করা থেকে বিরত থাকা। আইআরজিসি’র বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর উস্কানিমূলক তৎপরতার অভিযোগ এনে বলা হয়েছে আমেরিকার এ বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের কারণে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো এমনকি মার্কিন নৌবাহিনীর সম্ভাব্য হামলা থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য ইরানের বোট ও জাহাজগুলো সতর্কতা অবলম্বন করে ও টহল বাড়িয়ে দেয়।

ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, পাঁচ হাজারের মার্কিন সেনা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এ অবস্থায় তাদের উচিত নিজেদের দিকে লক্ষ্য রাখা। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, মার্কিন উপস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে এবং আমেরিকার যে কোনো বেআইনি পদক্ষেপের কঠিন জবাব দেয়া হবে।

গত ১৫ এপ্রিল আইআরজিসি’র ১১টি বোট মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের উস্কানিমূলক ও বেআইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধ সতর্ক করে দিলে আমেরিকা ওই অঞ্চল থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিল। আইআরজিসি’র এ পদক্ষেপ থেকে শুধু পারস্য উপসাগরে ইরানের শক্তিশালী অবস্থানের বিষয়টিই ফুটে ওঠে না একইসঙ্গে এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর যে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড রোধে তাদের দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টি ফুটে ওঠে।

যাইহোক, মার্কিন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানোয় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি বোটগুলো ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তিনি এটা ভালো করেই জানেন যে মার্কিন বাহিনীর যে কোনো আগ্রাসনের জবাব ইরান অত্যন্ত শক্তভাবে দেবে।

প্রকৃতপক্ষে, ইরান শত্রুর যেকোনো আগ্রাসনকে কখনোই খাটো করে দেখে না এবং নিজের প্রতিরক্ষাকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এর আগে পারস্য উপসাগরে মার্কিন অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাই এর প্রমাণ। এ কারণে তেহরান বহুবার ওয়াশিংটনের যে কোনো আগ্রাসনের ব্যাপারে হুশিয়ার করে দিয়েছে। পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য