কানাডার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ নির্বিচার গুলির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার রাত থেকে পরবর্তী ১৪ ঘণ্টা ধরে চলা ওই তাণ্ডব পরদিন সকালে হামলাকারীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

নিহতদের মধ্যে একজন ১৭ বছর বয়সী, একজন গর্ভবতী স্বাস্থ্য কর্মী ও রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাও ছিলেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

কী কারণে এ হামলা, কর্তৃপক্ষ এখনো তার উদ্দেশ্য বের করতে পারেনি। হামলাকারী বন্দুকধারী নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচিত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

৫১ বছর বয়সী ওই হামলাকারী পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় সে আরসিএমপি পুলিশের একটি উর্দি পরে ছিল এবং পুলিশের গাড়ির মতো করে সাজানো একটি গাড়ি চালাচ্ছিল।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নোভা স্কশার আরসিএমপি ঘটনার একটি খসড়া টাইমলাইনসহ নিহতের সংখ্যা বাড়ার কথা জানায়।

হামলাকারী নোভা স্কশার মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের পৃথক ১৬টি এলাকায় হামলা চালায়। ফলে ঘটনা অনুসন্ধানকালে পুলিশও নিহতের মোট সংখ্যা নিশ্চিত হতে পারেনি। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তখনই সতর্ক করেছিল তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলগুলোর মধ্যে অন্তত পাঁচটি জায়গায় আগুন লাগায় তাদের অনুসন্ধান কাজে বিঘ্ন ঘটে। পুড়ে যাওয়া বাড়িগুলোতে দেহাবশেষের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অনুসন্ধানে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়।

ঘটনার পুরো তদন্তে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।

নোভা স্কশার স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় বন্দুকধারী সমুদ্রতীরবর্তী ছোট্ট শহর পোর্টাপিকে গুলিবর্ষণ করে হামলা শুরু করে।

জরুরি নাম্বারে আসা অনেকগুলো কলে গুলির কথা জানানো হয়। পুলিশের টহলদলগুলো ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘একটি বাড়ির ভিতরে ও বাইরে বেশ কয়েকজন হতাহতকে পায়’ কিন্তু কোনো সন্দেহভাজনের খোঁজ পায়নি।

তারা আশপাশের ১০ মাইল এলাকার মধ্যে ‘আরও বহু স্থাপনায় ও গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেন’।

যেখানে ২৩ বছর ধরে আরসিএমপিতে কর্মরত কনস্টেবল হাইডি স্টিভেনসনকে গুলি করে মারা হয় সেখানে সন্দেহভাজনের গাড়িটি পায় পুলিশ। দায়িত্বপালনরত অবস্থায়ই নিহত হন স্টিভেনসন।

এরপর ওয়েন্টওর্থ, ডিবার্ট, মিলফোর্ড ও এনফিল্ডেও গুলিবিদ্ধ লাশ পায় পুলিশ। এনফিল্ডে বন্দুকধারী পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

গ্যাবরিয়েল ওর্টম্যান নামের এই সন্দেহভাজনের উদ্দেশ্য ও কেন সে এতজনকে মেরেছে, সে বিষয়ে এ পর্যন্ত তেমন কিছুই জানা যায়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য