পর্যাপ্ত ত্রান না পাওয়ায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কার্যালয় ঘোরাও ও সড়ক অবরোধ করেছেন শাঁওতাল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকজন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বীরগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড এলাকার আদিবাসী নেতা জোসেব হাসদার নেতৃত্বে মহাসড়ক অবরোধ ও একপর্যায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে ত্রাণের দাবিতে অবস্থান নেন শাওতাল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকজন । তাদের অভিযোগ ওয়ার্ড কাউন্সিলার মোঃ তাইজউদ্দিন ও মহিলা কাউন্সিলার সাবিনা ইয়াছমিন খাদ্য সরবরাহ করার আশ্বাস দিয়ে ও তা করেনি।

আদিবাসী নেতা জোসেব হাসদা , মৃত চরন মার্ডীর মেয়ে সুমি মার্ডী,হৃদয় হাসদা,চাকুর হাসদা, গোলাপী মার্ডী, মেরী হাসদা, সুরুজ মনি জানান, এ পর্যন্ত এক দফায় ৫ কেজি চাল ও ১কেজি আলু ছাড়া কিছুই পায়নি। অনেকেই বললেছেন তারা কেউ কেউ কিছুই পায়নি। আমরা কি খেয়ে জীবন ধরন করবো ,তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়ামিন হোসেন এর কাছে ত্রানের দাবী আদিবাসীদের। আদিবাসী নারী, পুরুষ উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি শান্ত করতে বীরগঞ্জ থানার অফিসারর ইনচার্জ আব্দুল মতিন প্রধানের নির্দেশে এস,আই আলন চন্দ্র বর্মণের নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থল যান।

এদিকে ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার মোঃ তাইজদ্দিন মোঠোফোনে জানান, আমি সরকারি ত্রাণ সহযোগিতা পেয়েছি ১৬৫ জনের এবং ১০ টাকার চাউলের কার্ড পেয়েছি ৯০টি সেগুলো সবার মধ্যে বিতরণ করেছি। এর মধ্যে আদিবাসী পেয়েছেন ৫জন। মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলার সাবিনা ইয়াছমিন জানান বরাদ্দই কম ,তাই তো সকলকে দেওয়া সম্ভব হয়নি ।

আদিবাসীরা উপজেলা ক্যাম্পাসে অবস্থানকালীন সময়ে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টি আসলে তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় না মেনেই উপজেলা পরিষদের বারান্দায় বিক্ষোভ করে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়ামিন হোসেন এর সাক্ষাত নাপেয়ে পুনরায় বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্মুখের মহাসড়ক অবরোধ করে।এতে সড়কের দুই পর্শ্বে দীর্ঘ যান জটের সৃষ্টি হয় ।

পরে বীরগঞ্জ পৌর মেয়র মোশারফ হোসেন বাবুলের আশ্বাসে শাওতাল আদিবাসীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে।এ সময় পৌর মেয়র মোশারফ হোসেন বাবুল সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ত্রাণ যেটুকু পেয়েছি তা কাউন্সিলারদের মাঝে দিয়েছি। তার পরও আমি নিজের থেকে তাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়ামিন হোসেন এর সাথে মুঠাফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ও পাওয়া যায়নি ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য