করোনা ভাইরাসে যখন বিশ্ব কাঁপছে, তখন চমক দেখিয়েছে গ্রিস। দিন দিন তারা উন্নতির দিকে যাচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিক অবস্থায় প্রাণ ফেরাতে লকডাউন শিথিল করতে চলেছে দেশটি।

এথেন্স থেকে রিপোর্টার জন পাসারোপ্লোস আল জাজিরাকে জানান, ইউরোপে যখন করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে, তখন গ্রিসেও এটি আঘাত হানে। এরপর তারা দ্রুত লকডাউন করে। এখন তারা আবারো আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। দ্রুত অর্থনৈতিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের আশা করছে দেশটি।

গ্রিসের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে ওয়ার্ল্ডোমিটারে বলা হয়, দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২২৪৫ জন। আর মারা গেছেন ১১৬ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫৭৭ জন। নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে কমে এসেছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারে বলা হয়, সবশেষ ২০ এপ্রিল ১০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। আর মারা যায় তিনজন। এরপর আর কোনো আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হয়, ২৭ এপ্রিল থেকে দেশটিতে লকডাউন শিথিল করা হবে।

গ্রিসের এই সাফল্যের বিষয়ে ব্লুমবার্গ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় গ্রিক সরকারের তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপ নেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাথেন্সে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর খবর প্রকাশের চার দিনের মধ্যে দেশটির যত দোকান রয়েছে সব বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশের সর্বস্তরের জনগণ মেনে চলে। তারা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদান করে।

তবে জনগণের জন্য সরকার নানা সুবিধাও দেয়। যাতে মানুষ ঘরে থাকতে পারে। সরকারি অফিস বন্ধ করা হলেও জরুরি সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রীদের মোবাইলে ডিজিটাল সিগনেচার দেওয়া হয়।

এছাড়া অনলাইন ডিজিটাল পোর্টালে চিকিৎসা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়। কে কোথায় আক্রান্ত হচ্ছে, কোথায় কি যন্ত্রপাতি আছে, সেটা ডিজিটাল উপায়ে জানা হয়।

প্রত্যেকের ট্যাক্স নম্বরের সঙ্গে মেডিকেল সিস্টেম যুক্ত করা হয়। তাই ডাক্তারের কাছে না গিয়ে মোবাইলে জানালেই অনলাইনে প্রেসক্রিপশন আপলোড করে দিতে পারছে ডাক্তাররা।

অপরদিকে ওষুধের জন্য ট্যাক্স নম্বর দিলেই দোকানদার প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ দিয়ে দিতে পারে, ওষুধের দামও ট্যাক্স নম্বর থেকে যায়। এই অনলাইন ব্যবস্থা চিকিৎসাসেবাকে দ্রুত করে।

সব মিলিয়ে গ্রিস সরকার ও জনগণ এক কাতারে দাঁড়ায়। সবাই সবার সহযোগিতা করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য