করোনাভাইরাস সংকটের কারণে প্রায় এক মাসের কড়াকড়ির পর সংক্রমণের হার কমায় কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করছে জার্মানি। খুলে দেওয়া হচ্ছে ছোট দোকানগুলো।

সোমবার থেকে জার্মানিজুড়ে ৮০০ বর্গ মিটারের চেয়ে কম আয়তনের দোকানপাট খোলা হচ্ছে৷ সেইসঙ্গে খোলা হচ্ছে বইয়ের দোকান, গাড়ি, সাইকেলের দোকানও। এ দোকানগুলোর ক্ষেত্রে আয়তনের কোনো শর্ত নেই৷ তবে এসব দোকানে প্রবেশ করতে কড়া নিয়ম মানতে হবে৷

অন্যদিকে, রেস্তোঁরা, বার, জিম এগুলো সব বন্ধই থাকছে এবং সরকার নাগরিকদের মুখে মাস্ক পরে চলাফেরার ওপর জোর দিচ্ছে। জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে তোলার এ উদ্যোগে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে মানুষের মধ্যে ব্যবধান বজায় রেখেই সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে৷

সংক্রমণের হার ধারাবাহিকভাবে কমায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জার্মান রাজনীতবিদরা মনে করছেন৷ এখন বিধিনিষেধ শিথিলের পর এর প্রভাব খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে সরকার৷ অর্থনীতিতে অচলাবস্থা কাটাতেই নানা ক্ষেত্রে সামান্য এই ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সংক্রমণের হার বেড়ে গেলে হয়ত আবার পিছিয়েও যেতে হতে পারে।

ফেডারেল সরকার গোটা দেশের জন্য কিছু সাধারণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে রাজ্য ভেদে কিছু পদক্ষেপে পার্থক্যও থাকছে৷ কোনো কোনো রাজ্যে খুলছে চিড়িয়াখানা। স্যাক্সনি রাজ্যে উঠে যাচ্ছে উপাসনার উপর নিষেধাজ্ঞা৷ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কয়েকটি রাজ্যে নির্দিষ্ট কিছু ক্লাসে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারবে৷ বাকি রাজ্যগুলোতে মে মাসে এমন কিছু ক্লাস খোলার কথা ভাবা হচ্ছে৷

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবমতে, জার্মানিতে রোববার পর্যন্ত ১৪৪,৩৮৭ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৪ হাজার ৫৪৭ জন।

জার্মান চ্যান্সেলার আঙ্গেলা ম্যার্কেল ১৬ টি রাজ্য গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করে ২০ এপ্রিল থেকে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত কয়েকধাপে বিধিনিষেধ শিথিলের পরিকল্পনা করেছেন। সে মতোই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ নিয়ে কোনো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি ম্যার্কেল। তার কথায়, ”এ সাফল্য খুবই নাজুক৷”

নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে আরো অনেক সময় লাগবে৷ এমনকি কিছু কড়াকড়ি ২০২১ সাল পর্যন্তও কার্যকর থাকতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য