কুড়িগ্রামের উলিপুরে করোনা ভাইরাসের কারণে বাজারে মন্দাভাব থাকায় টমেটো নিয়ে বিপাকে পড়ছেন প্রান্তিক চাষিরা। ক্ষেতের টমেটো ক্ষেতেই পঁচে যাচ্ছে। ফলে লোকসানের মুখে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন তারা। করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে বাজার গুলোতে কড়াকড়ি নজর দারী করায় পঁচনশীল টমেটো কোন ব্যবসায়ী কিনে মজুদ করতে চান না। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের এসব কৃষক টমেটো চাষ করে বিপাকে পড়েছেন। এ ছাড়া উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার বেগুন, ঢেঁড়শ,ঝিঙ্গা, মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষি দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন।

সরেজমিন, রোববার সকালে উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের আপুয়ার খাতা মন্ডলপাড়া গ্রামের গিয়ে দেখা যায়, ক্ষেতের টমেটো ক্ষেতেই পঁচে যাচ্ছে। ক্ষেত জুড়ে কয়েকটি ছাগল ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ সময় কথা হয়, ওই গ্রামের টমেটো চাষি ছয়ফুল ইসলামরে সাথে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার উলিপুর বাজারের আঁড়তে ৮৫ কেজি ওজনের ৮ বস্তা টমেটো নিয়ে গিয়েছিলাম। ১ বস্তা ১২০ টাকায় বিক্রি করে বাকি ৭ বস্তা ফেলে দিয়ে এসেছি।

৯০ শতক জমিতে এবার টমেটো চাষ করেছিলোম। ফলনও ভাল হয়েছিল। সব মলিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিক্রি করেছি ১৫-১৬ হাজার টাকার মতো। বাকি টমেটো জমিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তুলেও বা কী করবো। বর্তমানে বাজারে নিয়ে গেলে পাইকাররা নিতে চায় না। ওই গ্রামের রায়হানুল ইসলাম বাবু বলেন, ২০ শতক জমিতে প্রতি বছরের মতো এবারও টমেটো চাষ করেছিলাম। কিন্তু এবার খরচের টাকাও উঠলো না। একই গ্রামের গোলাম মওলা টমেটো চাষ করেছিলেন ৫০ শতক জমিতে।

বাজারে চাহিদা না থাকায় ক্ষেতের টমেটো ফেলে দিয়ে নতুন করে চাষাবাদ করার পরিকল্পনা করছেন। এ ছাড়া ওই গ্রামের নুর ইসলাম, উমর, খালেক, আঃ কাদের, মিজানুর নামের চাষিরাও প্রতি বছরের ন্যায় এবারও টমেটো চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ তুলতে না পারায় হতাশ এসব কৃষক। করোনা ভাইরাসের কারণে বাজারে লোক সমাগম কম হওয়ায় পাইকাররা পঁচনশীল টমেটো কিনতে চান না। খুচরা পর্যায়ে টমেটো কেজি ৮ থেকে ১০ টাকা হলেও প্রান্তিক পর্যায়ের চাষিরা সে মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন। এসব ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক সরকারের আর্থিক সহযোগীতা কামনা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা করা হচ্ছে। আগামীতে তাদেরকে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য