প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে মার্চের মাঝামাঝি থেকে ঘরবন্দি স্পেনের শিশুরা চলতি মাসের শেষ থেকে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার অনুমতি পেতে যাচ্ছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে শিশুদের ঘরে থাকার বিধিনিষেধ শিথিল করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বদ্ধ ঘরে টানা অবস্থানে শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, সে কারণেই তাদের মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, জানিয়েছে স্পেনের সরকার।

বার্সেলোনার মেয়র আদা কলাউ কয়েকদিন আগে শিশুদের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছিলেন।

ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের উহান থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এরই মধ্যে স্পেনের ২০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে; শনাক্ত আক্রান্তের সংখ্যাও পৌঁছেছে দুই লাখের কাছাকাছি।

শনিবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ব্রিফিংয়ে সানচেজ বলেছেন, স্পেন করোনাভাইরাসের সবচেয়ে খারাপ সময় অতিক্রম করলেও সতর্কতায় বিন্দুমাত্র ঢিল দেওয়া যাবে না।

“মহামারীর নৃশংসতা এখনো চলমান,” বলেছেন তিনি।

স্পেনে সতর্ক অবস্থার মেয়াদ ৯ মে পর্যন্ত বাড়াতে পার্লামেন্টের সমর্থন চাইবেন বলেও জানিয়েছেন এ সোশালিস্ট প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার দেশটিতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ৫৬৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে; এ সংখ্যা কয়েক সপ্তাহ আগের দিনগুলোর তুলনায় বেশ স্বস্তিদায়ক, বলছেন কর্মকর্তারা।

সংক্রমণ ‘মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আসায়ে’ স্পেন গত সোমবার থেকেই নির্মাণ ও উৎপাদন খাতের শ্রমিকদের কাজে ফেরার অনুমতি দিয়েছে। দেশটিতে লকডাউনের মূল নির্দেশনাগুলো এখনও বহাল থাকলেও খাবার ও ওষুধের দোকানে যেতে এবং জরুরি প্রয়োজনে প্রাপ্তবয়স্কদের ঘরের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি রয়েছে।

স্পেনের প্রায় ৮০ লাখ শিশু মার্চের মাঝামাঝি থেকে চার দেয়ালের ভেতর বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এভাবে টানা ঘরবন্দি দশা শিশুদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্প্যানিশ চিলড্রেন’স রাইটস কোয়ালিশন।

শিশুদের কিছু শারিরীক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধও জানায় তারা।

“শিশুদের বাইরে বের হওয়া দরকার। আর অপেক্ষার প্রয়োজন নেই, আমাদের শিশুদের বাইরে আসতে দিন,” বলেছিলেন বার্সেলোনার মেয়র কলাউ।

ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ এর মধ্যেই শিশুদের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। ডেনমার্কে ১১ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে।

নরওয়ে সোমবার থেকে তাদের কিন্ডারগার্টেনগুলো খুলে দিতে যাচ্ছে, ৪ মে থেকে কিছু স্কুল খুলছে জার্মানিও। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করলেও সুইডেন কখনোই স্কুল বন্ধ করেনি।

শনিবার সানচেজ জানান, তিনি আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে শিশুদের ঘরের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দিতে যাচ্ছেন। তবে কতক্ষণ তারা বাইরে থাকতে পারবে তা এখনও ঠিক হয়নি।

শিশু বিশেষজ্ঞ ও আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বলেছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য