বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩১২ জন। এনিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৪৫৬ জনে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৬৬% পুরুষ এবং ৩৪% নারী।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৭ জন। এনিয়ে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯১ জন মারা গেলেন। গত ২৪ ঘন্টায় মোট ২৭৪৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং এর মধ্যে ২৬৩৪ টি নমুনা পরীক্ষা করে এই সংখ্যা পাওয়া যায়।

এই সময়ে মধ্যে সুস্থ্য হয়েছে ৯ জন। এনিয়ে মোট ৭৫ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন সংক্রমণের সপ্তম সপ্তাহে রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন যে, বাংলাদেশে লকডাউন ঠিকভাবে কাজ করছে না। প্রতিদিনই আক্রান্তরা নতুন এলাকায় ছড়িয়ে যাচ্ছে। যার কারণে কমিউনিটি সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত কিছুদিনের অভিজ্ঞতায় আইসিইউ এর ফলাফল ভাল পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত যে ৯ জনকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল তাদের মধ্যে ৮ জনই মারা গেছেন বলেন জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, নতুন করে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকার ভেতরে ৪৪%, নারায়ণগঞ্জে ৩১%এবং বাকি ২৫ শতাংশ সারা দেশে।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগেরই বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এই বয়স সীমায় আক্রান্তের হার ২৩.৪ ভাগ। এর পরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা যার হার ২২ শতাংশ।

যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ এবং দুই জন নারী রয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকার ভেতরে তিন জন এবং বাকি চার জন নারায়ণগঞ্চে মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রয়েছে ৫২ জন। এ নিয়ে মোট আইসোলেশনে রয়েছেন ৬৪০ জন। রবিবার আইসোলেশন থেকে ২৫ জন ছাড়া পেয়েছেন। এনিয়ে মোট ছাড়া পেলেন ৫৩৭ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে ৩৮৯২ জনকে। আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৪৭৯জন।

এই সময়ের মধ্যে হটলাইনে ৫৯ হাজার ৭২ জনকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

এদিকে, রাজধানী ঢাকায় করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দারা। বাংলাদেশে শনিবার পর্যন্ত যে ২১৪৪ জন করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৮৭৭ জনই ঢাকার বাসিন্দা, যা আক্রান্তদের ৩২ শতাংশ।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোহাম্মদপুরে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ জন। এরপরেই বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ওয়ারীর বাসিন্দারা, ২৮ জন।

তারপরে রয়েছে মিটফোর্ডে- ২৬ জন, লালবাগে ২৩ জন আর যাত্রাবাড়ীতে ২৫ জন। পুরনো ঢাকা এলাকায় সব মিলিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৭ জন। উত্তরায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন, ধানমন্ডিতে ২১ জন।

একক মহল্লা হিসাবে হিসাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন মিরপুরের টোলারবাগে। সেখানে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছেন ১৯ জন। আরেকটি এলাকা শাঁখারিবাজারে আক্রান্ত ১০ জন। বাসাবোতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ জন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য