দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের জন্য বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এতে করে সঠিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করা যাবে সেই সাথে নমুনা সংগ্রকারীসহ অন্যান্যদের করেনায় সংক্রমিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের জন্য এই বুথটি বাংলাদেশে উপজেলা পর্যায়ে নমুনা সংগ্রহের প্রথম বুথ।

আজ শনিবার দুপুরে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চত্বরে স্থাপিত বুথটি থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে ৬ ফুট বাই ৬ ফুট এয়ারটাইট একটি বুথ। বুথটির সামনে কাঁচের কাউন্টার। সেখানে দুটোতে গ্লাভস লাগানো। সামনে একটি টেবিলে উপসর্গ থাকা ব্যক্তির বসার জন্য আরেকটি টেবিলে নমুনা সংগ্র হের উপকরন রাখা। বুথের ভিতর থেকে নমুনা সংগ্রহকারী গ্লাভসের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে উপসর্গ থাকা ব্যক্তির নাক ও গলা থেকে উপকরন দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছেন।

বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল কাশেম জানান, করোনা শনাক্তের অন্যতম শর্ত হচ্ছে নমুনাটি সঠিকভাবে সংগ্রহ করা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করার সময় উপসর্গ থাকা ব্যক্তির আচরণের কারণে সঠিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করা জটিল হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও নমুনা সংগ্রহকারীদের মধ্যে একটি ভীতি কাজ করে। কোন ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করতে গেলে ওই স্থানের আশেপাশের লোকজন সেটি দেখতে আসে। এতে করে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এছাড়াও নমুনা সংগ্রহ করার পর ওই ব্যক্তি সামাজিক ভাবেও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। এখন বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহের ফলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

নমুনা সংগ্রহকারী মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব) শাহ আল ইমরান জানান, করোনা নিয়ে সকলের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহের সময় উপসর্গ থাকা ব্যক্তি হাঁচি, কাশি দিতে থাকেন। এর ফলে নমুনা সংগ্রহকারীদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক দেখা দেয়। সবসময় ভীতি কাজ করতো। এখন কোন প্রকার ভীতি ছাড়াই নমুনা সংগ্রহ করা যাবে।

বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান হোসেন মেহেদী জানান, ইউটিউবের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনার নমুনা সংগ্রহে এ ধরনের বুথের ব্যবহার দেখতে পান। এরপরই তিনি এটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় এটি স্থাপন করেন। এটি বাংলাদেশে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত প্রথম বুথ।

তিনি আরো জানান, এই বুথের মাধ্যমে কোন পিপিই ছাড়াই নমুনা সংগ্রহকারী নমুনা সংগ্রহ করতে পারবেন। ফলে পিপিই এর অপচয় রোধ হবে। নমুনা সংগ্রহকারীর সংখ্যা বাড়বে। এতে করে সংক্রমণের হারও কমবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য