মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী পঞ্চগড়ঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ করা হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। বেগুনের ফলন দেখে কৃষকের মুখে হাসি দেখার কথা। কিন্তু বিধি হলো বাম ! যে মহুর্তে বেগুন বাজারে বিক্রি করতে হবে ঠিক সেই মহুর্তে করোনা ভাইরাস এসে হাজির। অনেকেই বেগুন নিয়ে বাজারে আসলেও ক্রেতা নেই।

মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রী কলেজ মাঠে বেগুন বিক্রেতা বটতলী এলাকার বংকিম চন্দ্র বলেন, দুই বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। ফলন ভাল হয়েছে। বেগুনের খরিদদার নেই। দুই বিঘা জমিতে বেগুন আবাদ করতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আজ ৭ বস্তা বেগুন বিক্রির জন্য বাজারে এনেছি। ৭বস্তা বেগুনের দাম ২৫০ টাকা বলেছে। ক্রেতা বলেছে, এ বেগুন বাড়িতে নিয়ে গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করবে।

তিনি বলেন, দুই বিঘা জমির বেগুন সর্বমোট পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশা করেছিলাম বেগুন ট্রাকে করে দক্ষিনাঞ্চলে পাঠাব। আমার আশার মুখে ছাঁই পড়েছে। করোনা ভাইরাস এসে সর্বনাশ করে দিল । গতবছর বেগুনের আবাদ করে বাজারে বিক্রি করেছি, হোটেলে দিয়েছি এবং ট্রাকে করে দক্ষিনাঞ্চলে সরবরাহ করে অনেক লাভবান হয়েছি।

এবার করোনা ভাইরাসের কারনে হোটেল বন্ধ, পরিবহন বন্ধ, এলাকার মানুষ আর কত খাবে। অন্য একজন বেগুন চাষী ক্ষোভে বলেন,বর্তমান বাজারে বেগুনের চেয়ে পানির দাম বেশী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকার গরীব অসহায় লোকদের বিনামূল্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার বেগুন চাষীদের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে বেগুন ক্রয় করে ত্রাণের সাথে বিনামূল্যে বেগুন বিতরণ করলে চাষীরাও কিছুটা হলেও লোকসান পুষিয়ে নিতে পারতো,আর গরীব লোকদেরও উপকার হতো। চাষীরা বলেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে লাভের আশায় বেগুন চাষ করে বর্তমানে লোকসান গুনা শুরু করেছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য