দিনাজপুর সংবাদাতাঃ নভেল করোনার প্রভাবে সরকার ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়িয়েছে। ২৫ তারিখের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কিনা এর নিশ্চয়তা নেই। কাজ না থাকায় এরই মধ্যে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। একদিকে পরিবার -পরিজন,অন্যদিক একবারে বন্ধ হয়ে গেছে আয় রোজগার। সরকারি ও বেসরকারিভাবে তারা যে খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন তা ফুরিয়ে গেলে কীভাবে চালাবেন তা নিয়ে ভাবনার শেষ নেই।

অন্যদিকে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন মধ্যবিত্তরাও। তাদের যেটুকু সঞ্চয় ছিল তা বসে বসে খেয়ে শেষ পর্যায়। আগামীতে কীভাবে দিন পার করবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারাও। কারণ নিম্ন মধ্যবিত্তরা না পারছেন কারও কাছে চাইতে না পারছেন অন্য কোনো কাজ করতে।

বীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সুজালপুর গ্রামে মৃত মহাসিন সরকারের ছেলে মোঃ আজাদ সরকার নামে পৌরশহরের এক চ্যার্জার ভ্যান চালক জানান, সকাল ৭টায় বের হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত আয় হয়েছে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির আগে রোজগার হতো ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। উপজেলার সুজারপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে রিকশাচালক মুজিবুর রহমান জানান, সীমিত আকারে জনচলাচল করার কারণে আয় কমে গেছে।

দিনাজপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন বীরগঞ্জ শাখা,র শ্রমিক সংকর প্রসাদ গুপ্তা, তার আইডি কার্ড নাম্বা ৫২০৭ তিনি জানান, গত ২৫ মার্চ থেকে বাড়িতে বসে আছি, দীর্ঘ ২২দিন থেকে বসে এখন পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি সংস্থার কোনো ত্রান সমগ্রী পায়নি। অনাহারে -আধানাহারে দিন চলে যাচ্ছে। দিনমজুর হিসেবে যারা কাজ করতেন তারাও হয়ে পড়েছেন কর্মহীন। এদের চোখমুখে হতাশার ছাপ।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় চালক ও তাদের সহকারীদের আয় বন্ধ। তারাও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে পাড় করছেন। ঢাকার কোচের চালক বাবুল জানান,তিন সপ্তাহ ধরে ঢাকাগামী বাস বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে রয়েছেন তিনি। কবে গাড়ি চালাতে পারবেন তাও বলতে পারছেন না। দাসপাড়ার বিরেন্দ্র ছেলে অটো চ্যার্জার চালক নির্মল জানান,সকালে গাড়ি বের করে দুপুর পর্যন্ত মাত্র ১০০ টাকা রোজগার এই দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

বীরগঞ্জ উপজেলায় কর্মহীন হয়ে বাস,মিনিবাস, মাইক্রোবাস চালকরা পড়ে বিপাকে। একই অবস্থা হোটেল শ্রমিকদেরও। অনেকে মনে করছেন,বিক্ষিপ্তভাবে না দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলে এর সুফল পাবে সাধারণ মানুষ। বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়ামিন হোসেন জানান, বেশির ভাগ শ্রমজীবী মানুষকে সরকারি সহায়তা হিসেবে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। যারা পায়নি তাদের পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। এছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়েও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য