আনোয়ার হোসেন আকাশ রাণীশংকৈল ঠাকুরগাঁওঃ করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারী নির্দেশে গত ২৬ মার্চ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ঔষুধের দোকান ছাড়া অন্যান্য দোকানসহ অফিস আদালত বন্ধ রেখেছে সরকার। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল পৌরশহরের বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দিনমজুরসহ বিভিন্ন দোকানে কর্মরত শ্রমিকেরা।

এ কর্মহীন শ্রমিকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেওয়ার ঘোষনাও দেয় সরকার। সে হিসাবে উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

তবে রাণীশংকৈল পৌরসভায় কর্মহীন শ্রমিকের তুলনায় এ যাবত বিতরণকৃত ত্রান অপ্রতুল বলে মনে করছে পৌরবাসী। এতে কেউ পেয়েছে কেউ পায় নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সাবেক একজন কাউন্সিলর জানান, পৌরসভার প্রায় পাঁচ হাজার স্থানীয় মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে সরকারী সহযোগিতা পেয়েছে মাত্র ১২ শত মানুষ যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

জানা যায়,পৌরশহরে বেশিরভাগ মানুষ ব্যবসায়ী ও শ্রমিক পর্যায়ের। এশহরে রয়েছে কাপড়ের গার্মেন্টস শাড়ীর বিতান জুয়ের্লাস হার্ডওয়ার মোবাইল শপ কসমেটিক জুতা সিমেন্ট রড হোটেল রেস্তেরা দোকানসহ বিভিন্ন পণ্যের। এ দোকানুগলোতে গড়ে ৫/১০ জন করে মানুষ দিনমুজুর হিসাবে কিংবা মাসিক বেতনে কর্মরত ছিল। কিন্তু বর্তমানে কর্ম বন্ধ । তাই তাদের আয়ও বন্ধ্ তারা পরিবার পরিজন নিয়ে দূর্বিসহ অবস্থায় রয়েছে বলে অনন্ত ১০ জন শ্রমিকের সাথে কথা বলে এ তথ্যগুলো নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এখানে বরাদ্দ কম হওয়ায় পৌরসভার অধিকাংশ মানুষ ত্রাণ না পাওয়ায় ক্ষোভে বৃহস্পতিবার(১৬ মার্চ) সকালে প্রায় শতাধিক নারী উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটক আটকে দেয়।

এতে গেটের ভিতরে আটকা পড়ে খাদ্য সামগ্রী(ত্রাণ) পরিবহন মালবাহী কার্ভাড গাড়ী। পরে ইউএনও মৌসুমী আফরিদার আশ্বাসে এবং স্থানীয় আ’লীগ নেতা আনিসুর রহমান বাকির সহযোগিতায় প্রধান ফটক থেকে নারীদের সরিয়ে দিয়ে গাড়ীটি যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

পৌরসভা সুত্রে জানা যায়, সরকারীভাবে দুই দফায় মোট ১২ মেট্রিক টন চাল পাওয়া গেছে। এ চাল নিয়মনুযায়ী ১২শত শ্রমিকসহ অসহায় দুঃস্থ শ্রেণীর মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ওএমএস এর বরাদ্দকৃত তিন টন চাল নিয়মনুযায়ী দেওয়া হয়েছে।

মানুষের অধিক চাহিদা থাকায় এবং বরাদ্দ কম হওয়ায় কর্মহীন নারী পুরুষদের তোপের মুখে প্রতিনিয়িত পড়তে হচ্ছে পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরদের। তবে মেয়র আলমগীর সরকার তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার কর্মহীনদের প্রতি নগদ টাকা ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে পৌর মেয়র আলমগীর সরকার বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে বলেন, এ যাবত ১২ মেট্রিক টন চাল সরকারীভাবে পাওয়া গেছে তা সুষ্ঠভাবে বণ্টন করা হয়েছে। সরকারের পরবর্তী নির্দেশনাসহ আরো বরাদ্দ পাওয়া গেলে আবারো তা কর্মহীনদের তালিকা করে বন্টণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য