করোনার কারণে ঘরবন্দি পুরোবিশ্বের মানুষ। বাইরে যাওয়া বন্ধ তাইতো শিশুরা খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না। তাইতো ঘরেই স্মার্টফোন, টিভি, কম্পিউটারের সঙ্গে কাটছে বেশির ভাগ শিশুর শৈশব।

জানেন কি স্মার্টফোন, টিভি বা কম্পিউটারের প্রতি সন্তানের অতিরিক্ত আকর্ষণ যে তার শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে তা বেশির ভাগ বাবা-মায়েই বোঝেন না। কতক্ষণ স্মার্টফোন, টিভি বা কম্পিউটারের সঙ্গে সময় কাটানো শিশুর জন্য নিরাপদ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষ্য, যত বেশি সময় শিশু টিভি, স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সঙ্গে কাটাবে, ততোই তার মানসিক, শারীরিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিশুর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য টিভির পর্দা নয়, খেলার মাঠেই উপযুক্ত। ২ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের যত বেশি করে শারীরিক ক্রিয়াকলাপে, দোড়ঝাপ, খেলাধুলোয় নিযুক্ত করা যায়, ততই ভালো। এদিকে এখনকার পরিস্থিতিতে বাড়ির বাইরে বের করাটাই বিপজ্জনক।

এ ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ হলোঃ

• ঘরবন্দি অবস্থায় দৌড়ানোর অভ্যাস করানো সম্ভব নয়। তাই খেলার ছলে স্কিপিং বা লাফ দড়ির সাহায্য সন্তানকে শরীরচর্চা করার।

• আপনি নিজেও সন্তানের সঙ্গে খেলায় সময় দিন। ফলে বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে খেলতে বাড়ির বড়দেরও খানিকটা শরীরচর্চা হয়ে যাবে।

• সন্তানের যোগব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সবারই ঘরবন্দি অবস্থায় এর চেয়ে ভালো শরীরচর্চা কিছু হতে পারে না।

• পড়াশুনার বাইরে অবসর সময় কাটানোর জন্য সন্তানের হাতে মোবাইল ফোনের পরিবর্তে তুলে দিন গল্পের বই, ধাঁধাঁর সামগ্রী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিভি, মোবাইল বা কম্পিউটারে সঙ্গে সময় কম কাটানোই ভালো। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা দিনে ১ ঘণ্টা টিভি বা কম্পিউটারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে। এর বেশি সময় বাড়লে বিপদ বাড়বে। তাইতো সন্তানের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই পরামর্শ মেনে চলতে পারেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য