বিশ্বজুড়ে মহামারী সৃষ্টি করা নভেল করোনাভাইরাসে বর্তমানে সবচেয়ে আক্রান্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ২৬ হাজার পার হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর থেকে কোনো দেশে একদিনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, মঙ্গলবার দেশটিতে অন্তত দুই হাজার ৪০৫ জন মারা গেছে বলে সিএনএন জানিয়েছে।

এদিন শনাক্ত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ৬৩৩ জন।

চীন থেকে সরে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রধান উপকেন্দ্র এখন যুক্তরাষ্ট্র। এ পর্যন্ত এখানেই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার সকালে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছয় লাখ নয় হাজার ৪২২ ও মৃতের সংখ্যা ২৬ হাজার ৪১ জন বলে দেখা গেছে।

নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রাদুর্ভাবের মূল উপকেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৮ জন এবং মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ৮৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে নিউ ইয়র্ক শহরে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজার ৪৬৫ জন এবং মৃতের সংখ্যা সাত হাজার ৯০৫ জন।

সোমবার ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে কোভিড-১৯ এ প্রথম একজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো অঙ্গরাজ্য ও নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল করোনাভাইরাসের মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে ওয়াইওমিংয়েই নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে কম।

নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে। এখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৮ হাজার ৮২৪ জন ও মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ৮০৫ জন।

আরও সাতটি অঙ্গরাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজারের কোঠা পার হলেও মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার পার হয়েছে দুটি রাজ্যে, মিশিগান ও লুইজিয়ানায়। মিশিগানে আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ হাজার ও মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৭৬৮ জন এবং লুইজিয়ানায় আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ৫১৮ ও মৃতের সংখ্যা এক হাজার ১৩ জন।

তবে এসব সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পুরো চিত্র উঠে আসেনি বলে মত দেশটির বিশেষজ্ঞদের। মৃদু আক্রান্ত ও ভাইরাসটির বাহকদের পরীক্ষায় আওতায় আনা হয়নি বলে তারা রেকর্ডের বাইরেই থেকে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য