দিনাজপুর সংবাদাতাঃ কেউ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে না। রাস্তার মোড়ে মোড়ে, চায়ের দোকানে গাদাগাদি করে আড্ডা চলছে।দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌরসভার হাটখোোলা ও উপজেলার গ্রামঞ্চলে সরকারি নির্দেশ পালনের কোনো বলাই নেই। রাস্তার মোড়ে মোড়ে, চায়ের দোকানে গাদাগাদি করে আড্ডা চলছে।

ফাঁকা জায়গায় বসে চলছে তাস পেটানো ও লুডু খেলা। ফলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পাড়ার ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। বীরগঞ্জ পৌরসভা মেয়র মোঃ মোশারফ হোসেন বাবুল সামাজিক দূরত্বর কথা চিন্তা করে বীরগঞ্জ দৈনিক বাজারসহ বিভিন্ন স্থানের মাছ ও মাংসের দোকান সরিয়ে পৌর হাটখোলায় বসানোর জন্য সকল মাছ ও মাংস ব্যবসায়ীদের মাইকিং করে জানিয়ে দিয়েছেন।

সোমবার সকালে পৌরশহরের হাটখোলা ঘুরে দেখা গেছে একপাশে মাছ- মাংসের অন্যদিকে তাস পেটানো ও লুডু খেলা চলছে। এবং বীরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,মোড়ে মোড়ে মানুষের আড্ডা। চায়ের দোকানে ভিড়। অনেক মুদির দোকান খোলা। অনেকে আবার বাড়ির উঠান ও আঙিনায় গাদাগাদি হয়ে বসে গল্পগুজব করছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়য়নের বাহাদুর বাজারে ১০ থেকে ১২টি চায়ের দোকান খুলে আগের মতো বেচাকেনা চলছে। চায়ের দোকা ও হোটেলে গিয়ে দেখা গেল,১০-১২ জন গাদাগাদি করে বসে পরটা, পুরি ও চা পান করছে।

কারও মুখে মাস্ক নেই। মাস্ক নেই কেন —- জানতে চাইলে হোটেলের মালিক হরির ছেলে কৃষ্ণ সুটু, আব্দুল আজিজের ছেলে দুলাল, মঙ্গলের ছেলে ডালিম, আশরাফুলের ছেলে রাসেদ, লিটন মহিদুলের ছেলে লিটন, ,জগত,মহিদুল বলেন,’আমরা গ্রামের মানুষ। সকালে চা খেয়ে কাজে যাই। সারাদিন জমিতে কাজ করি আমাদের করোনা হবে না। তাই মাস্ক পরিনি।’ বিকাল সাড়ে টার দিকে উপজেলার ২৫ মাইল প্রাণনগর নদীর তীরে ও বটগাছ তলায় গিয়ে দেখা যায়, ফাঁকা একটি জায়গায় কিছু তরুণ কাছাকাছি বসে তাস ও লুডু খেলছে। কারও মুখে মাস্ক নেই। করোনাভাইরাস নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।

জানতে চাইলে গ্রামের তরুণ নামপ্রকাশে অনিচ্ছু বললেন, ‘পুলিশ বাজারে গেলে ঘরে ফিরে যেতে বলছেন। উপজেলার শহরে যেতে দেয় না। হাটবাজারে যাওয়া যায় না। তাই বসে বসে মোবাইলে লুডু খেলছি।’একই গ্রামের তরুণ জানায়,গ্রামে করোনা নেই। আমাদের কিছু হবে না। এখন কাজ নেই। তাই বসে বসে তাস খেলছি। সময় কাটাচ্ছি। উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পানের দোকানের সামনে গিয়ে দেখা গেল, কিছু লোক রাস্তার মোড়ে আড্ডা দিচ্ছে। তারা করোনাভাইরাস নিয়ে গল্প করছে। কিন্তু সাত-আটজনের মধ্যে কেবল তিনজনের মুখে মাস্ক আছে কিন্তু নাকের নিচে! নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক মাস্ক পরা ওই ব্যক্তি জানান,সত্যি কথা হলো,গ্রামের অনেক মানুষ করোনা সম্পর্কে জানে না।

করোনার ক্ষতিকর দিক তারা বোঝে না। প্রশাসন গ্রামে গ্রামে প্রচাও করেনি। শুধু শহরে মাইকিং করা হয়। একই গ্রামের শিক্ষক বললেন,’মানুষ করোনার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে আমরা প্রবল ঝুঁকির মধ্যে আছি। কেন দোকান খোলা — জানতে চাইলে কল্যাণী হাট এলাকায় চায়ের দোকানদার বললেন, দোকান দিয়ে আমাদের রুটিরুজি হয়। না খুলে কী করব? গ্রামে লোকজনের ভিড় প্রসঙ্গে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মতিন প্রধান বলেন, ‘আমাদের গাড়িবহর দেখে লোকজন পালিয়ে যান। কিন্তু আমরা চলে আসার পর আবারও আড্ডা জমে।

তবে আমরা চেষ্টা করছি, লোকজনকে ঘরে ফিরানোর। বাহাদুর হাটে চায়ের দোকান খোলা থাকা প্রসঙ্গে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়ামিন হোসেন বলেন, সংবাদ পেয়ে উক্ত স্থানে গেলে পুলিশ দেখে সবাই পালিয়ে যায়। ফিরে আসলে আবার দোকান করছেন বলে জানতে পেয়েছি। তবে উপজেলা প্রশাসন প্রতিদিন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় করোনাভাইরাসের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে প্রচার চালাচ্ছে। ে

পৗরশহরে লোকজনের চলাফিরা ঠেকাতে দফায় দফায় পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলেও গ্রাম পুলিশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:মোঃ আনোয়ার উল্ল্যাহ জানান, এখন পর্যন্ত বীরগঞ্জে করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য