রংপুরের বিড়ি শিল্পনগরী হারাগাছে সরকারি ত্রাণ সহায়তার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে হারাগাছ ডিগ্রি কলেজের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

হারাগাছ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মহীন, অসহায়, দুস্থসহ সহস্রাধিক বিড়ি শ্রমিক নারী-পুরুষ ত্রাণ সহায়তার দাবিতে ডিগ্রি কলেজের সামনে বানুপাড়া সড়কের দুইপাশে অবস্থান নেন। এ সময় তারা ত্রাণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, সরকার বা পৌরসভা থেকে দেওয়া কোনো ত্রাণ সহায়তা তাদের এলাকার মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। এমনকি ন্যায্যমূল্যের চাল, ডাল, আটাসহ নিত্যপণ্য নিতেও তাদের জনপ্রতিনিধিরা কোন ধরনের সহায়তা করেনি। বাধ্য হয়ে অভুক্ত পরিবারের লোকজন রাস্তায় এসেছেন।

স্থানীয় সবুর আলী, মমতা বেগম ও হযরত আলী বলেন, সরকারি ত্রাণের জন্য একাধিকবার মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরের সাথে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। করোনার কারণে হোটেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিড়ি কারখানা বন্ধ রয়েছে। খাবারের অভাবে দিন কাটছে, অথচ কেউই আমাদের খোঁজ রাখছেন না। তাই বাধ্য হয়ে আজ সড়কে নেমেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানা পুলিশ। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হয় স্থানীয় সাংবাদিকরা। পুলিশ তাদের ছবি তুলতে বাধা দিয়ে হুমকি-ধামকি দেন। এঘটনায় বিক্ষোভকারীরা উত্তেজিত হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, কোন সাংবাদিককে ছবি তুলতে বাধা দেয়া হয়নি। সড়কে মিছিল করা লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার সময় তাদেরকেও সড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্বে যেতে বলা হয়। এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল।

ত্রাণ বিতরণের ব্যাপারে হারাগাছ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোতাসসিম বিল্লাহকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হারাগাছ পৌরসভার মেয়র হাকিবুর রহমান মাস্টার সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি হারাগাছ পৌর এলাকায় ৫ টন চাল ও ৬’শ খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। এখানে ৫৬ হাজার লোকের বসবাস। যাদের ৮০ ভাগ বিড়িশিল্প কারখানার সাথে জড়িত। তাদের বেশির ভাগই অসহায় দুস্থ ও কর্মহীন দিনমজুর। সরকারিভাবে এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা আসে নাই। একারণে সবখানে বিতরণ করাও সম্ভব হচ্ছে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য