মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষের চাহিদার তুলনায় সরকারের দেয়া ত্রাণের অপর্যাপ্ততা কারণে ক্ষুধাপীড়িত মানুষের দুর্ভোগের কথা জানাতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার এক মহিলা কাউন্সিলর।

১৩ এপ্রিল সোমবার দুপুরে শহরের গোলাহাট চিনি মসজিদ মোড়ে উপস্থিত হয়ে হ্যান্ড মাইকে এলাকাবাসী ও সংবাদকর্মীসহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য রাখেন সৈয়দপুর পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সাবিয়া সুলতানা। পরে তার বাসায় উপস্থিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার অপারগতার ব্যাখ্যা দেন এবং তার বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল চুরির অপপ্রচারের প্র্রতিবাাদ জানিয়ে এর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েচে প্রশাসনের প্রতি।

মহিলা কাউন্সিলর সাবিয়া সুলতানা এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে তাদের দূর্দশায় সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, মহামারী করোনার প্রভাবে শ্রমিক শহর সৈয়দপুরের প্রায় অর্ধেক মানুষই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ দিন মজুর শ্রেণীর খেটে খাওয়া মানুষ। যারা সম্পূর্ণরুপে হাতশুন্য হয়ে পড়েছেন।

দীর্ঘ ২০ দিনে তাদের মধ্যে দু’মুঠো ভাতের জন্য হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুধার্ত মানুষ দিশেহারা হয়ে জনপ্রতিনিধিদের বাড়িতে, পৌরসভায় ও উপজেলা পরিষদে ধর্ণা দিচ্ছে। কিন্তু তাতেও তাদের কোন সুরাহা না হওয়ায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছেন এবং সড়ক অবরোধ করে পুলিশ ও সেনা বাহিনীর গাড়ি পর্যন্ত আটকে ত্রাণের দাবি জানাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নিলেও ক্ষুধার জ্বালা মিটানোর কোন ব্যবস্থাই তাদের হয়নি বা কেউ করতে পারেনি।

তিনি বলেন, আমার ৩টি ওয়ার্ডে প্রায় ১৯ হাজার ভোটার। এর মধ্যে অর্ধেকই কর্মহীন হয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। আমি পৌরসভা থেকে ৩৫ টি স্লিপ, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫০ কেজি চাল পেয়েছিলাম। যা ৫০ জন অতি দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করেছি। তারপরও আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারণা চালাচ্ছে প্রতিপক্ষরা। অথচ তারা এ দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াবার পরিবর্তে আমাকে হেয় করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। যা খুবই দুঃখজনক ও অমানবিক। আমি যদি ত্রাণ না পাই তাহলে কিভাবে জনগণকে দিবো।

আপনার জানেন আমার মা রাজিয়া সুলতানা দীর্ঘ ১৫ বছর ধারাবাহিকভাবে ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তার মেয়ে হওয়ায় জনগণ আমাকে বিনা খরচেই কাউন্সিলর নির্বাচিত করেছেন। আমি জানি আমার এলাকার সকলেই আমাকে খুবই ভালোবাসেন। তাই আমিও তাদের যে কোন প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াই। এখনও আমার সামর্থানুযায়ী সহযোগিতা করছি। নিজেই কাধে স্প্রে মেশিন নিয়ে এলাকার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় জীবানুনাশক ছিটিয়েছি। সকলকে সচেতন করতে হ্যান্ড মাইক নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছি। অথচ নির্বাচনের সময় যারা লাখ লাখ টাকা খরচ করে আমাকে পরাজিত করতে চেয়েছিলেন তারা আজ কোথায়।

কেন তারা এ দুঃসময়ে জনগণের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। কোথায় সাংবাদিক দুলালের বউ রাজিয়া সুলতানা, কোথায় নাজ পারভীন। কেন তারা এখন টাকার বাহার দেখিয়ে জনগণকে দু’মুঠো খাবারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন না। এলাকাবাসীর দুর্দশায় তাদের মাথায় হাত বুলানোর পরিবর্তে তারা নষ্ট রাজনীতি করার অপচেষ্টা করছেন। তারা দূষ্কৃতিকারী কতিপয় বখাটে যুবক ও সাথী নামের একজন পতিতাকে নিয়ে চাল চুরির মিথ্যে অপবাদ দিয়ে মিছিল করিয়ে আমাকে সমাজে হেয় করতে চাচ্ছেন। কিন্তু আমার জনগণ ক্ষুধার্ত হলেও বেঈমান নয়। তারা জানে আমি তাদের জন্য কতটুকু করছি। প্রয়োজন অনুযায়ী করতে পারছিনা এজন্য খুবই কষ্ট হচ্ছে কিন্তু সামর্থ হচ্ছেনা প্রত্যেকের কষ্ট দুর করার।

তিনি বলেন, ঢেলাপীর উত্তরা আবাসন ও গোলাহাট ২ নং ক্যাম্পের ক্ষুধার্ত মানুষেরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করার প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন আমাকে মাত্র ২ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। আমি তা নেইনি বরং তাদেরকেই বিতরণ করতে বলেছি। কারণ আবাসনে প্রায় ১ হাজার পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগই হত দরিদ্র নি¤œ আয়ের মানুষ। প্রাপ্ত চাল ৫ কেজি করে দিলেও মাত্র ৪শ’ পরিবারকে দেয়া সম্ভব। বাকি মানুষগুলোর কি ব্যবস্থা হবে। তাছাড়া আবাসন ছাড়াও ৩টি ওয়ার্ডের অন্য ক্ষুধার্ত মানুষগুলোকে কি দিয়ে শান্তনা দেবো। সরকার বার বার প্রচার করছে কাউকে না খেয়ে থাকতে হবেনা। প্রত্যেকের ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দেয়া হবে। এই কি তার নমুনা।

এভাবে চলতে থাকলে আর ২/১ দিনের মধ্যে ক্ষধার্ত মানুষগুলো বাধ্য হবে পেটের খাবার জোটাতে অপকর্মে লিপ্ত হতে। তখন সামাল দেয়া খুবই দুরহ হয়ে পড়বে। তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সৈয়দপুরের কর্মহীন মানুষগুলোর খাবারের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানান। সে সাথে এলাকার সকল রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ তার সাথে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রতি একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাড়াতে করোনার সংক্রমন মোকাবেলার জন্য অনুরোধ জানান। নতুবা তিনি তার দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে নিজ ঘরে কোয়ারেন্টাইনে বসবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

এসময় উপস্থিত জনগণ তার এ সিদ্ধান্ত বাদ দিয়ে যা আছে তা নিয়েই তাদের পাশে থাকার জন্য অনুরোধ জানান এবং সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে নিরঙ্কুশ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য