বিশ্বব্যাপী মহামারী হয়ে ওঠা নভেল করোনাভাইরাসে ভারতে শনাক্ত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

রোববার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতজুড়ে আক্রান্তের মোট সংখ্যা আট হাজার ৩৫৬ ও ‍মৃতের সংখ্যা ২৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯০৯ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ও এ সময়ে ৩৪ জন মারা গেছে ।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশজুড়ে লকডাউনের মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়ার একদিন পর আক্রান্ত ও মৃতের সর্বশেষ এ তথ্য এল বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

২৫ মার্চ থেকে ভারতজুড়ে শুরু হওয়া লকডাউনের মেয়াদ ১৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার দেশটির সরকার বলেছে, যদি দেশব্যাপী লকডাউন কার্যকর করা না হতো তাহলে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ভারতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা আট লাখ ২০ হাজারে দাঁড়াতো।

এ দিনের দৈনিক ব্রিফিংয়ে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা লাভ আগারওয়াল বলেন, “আমাদের করা পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লকডাউন বা নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যার ক্রমবর্ধমান হার হত ৪১ শতাংশ, এতে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ এপ্রিলের মধ্যে দাঁড়াতো দুই লাখ আট হাজার এবং ১৫ এপ্রিলের মধ্যে আট লাখ ২০ হাজারে।”

শনিবার রাতে দিল্লি আরও তিনটি করোনাভাইরাস হটস্পটের কথা ঘোষণা করেছে। এ নিয়ে ভারতের রাজধানীতে ভাইরাস হটস্পটের সংখ্যা দাঁড়িযেছে ৩৩টিতে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসব হটস্পটগুলোতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের তাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শনাক্ত হওয়া এক হাজার ৬৯ জন আক্রান্ত নিয়ে এ সংখ্যায় দিল্লি ভারতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এক হাজার ৭৬১ জন আক্রান্ত নিয়ে শীর্ষে আছে মহারাষ্ট্র, রাজ্যটিতে এ পর্যন্ত ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী ও মহারাষ্ট্রের প্রধান শহর মুম্বাই কোভিড-১৯ এর বড় ধরনের হটস্পট হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার শহরটির তাজ মহল প্যালেস ও তাজ মহল টাওয়ার হোটেলের অন্তত তিন কর্মচারীর কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে।

এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি হিসেবে পরিচিত মুম্বাইয়ের ধারাভিতে আরও ১৫ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এতে এই বস্তিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে যাদের মধ্যে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এই বস্তির পাঁচ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে অন্তত ১০ লাখ লোকের বাস এবং এখানে পাঁচ থেকে ছয় জন একসঙ্গে এক রুমে থাকেন।

সুলভ পরিষেবা প্রদানকারী ইন্ডিগো জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমিত হয়ে চেন্নাইতে তাদের এক কর্মচারী মারা গেছেন।

ভারতের সবচেয়ে দূষণমুক্ত শহর হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া ইন্দোর অন্যতম হটস্পট হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত ৩৬ জনের মধ্যে অন্তত ২৭ জন এ শহরের বাসিন্দা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য