কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে আগুনে পুড়ে ভষ্মিভুত হয়েছে ৯ পরিবারের ২১ টি ঘর। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কয়েক লাখ টাকার। উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সাতানীপাড়া গ্রামে এই অগিগ্নকান্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়রা জানায় শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়লে হঠাৎ একটি ঘরে আগুন দেখতে পায়। পরে আকস্মিকভাবে সব ঘরে আগুন লেগে নিমিশেই ভষ্মিভুত হয় ৯ পরিবারের ২১টি ঘর। অগ্নিকান্ডে হাঁস, চড়াই, ধান, চাল, কাপড়-চোপর কোনো কিছুই বের করতে পারেননি তারা।

পরে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিস ডিফেন্স ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ওই সময়ের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, মৃত সোনাউল্লার ছেলে আহাম্মদ আলী, আল-আমিন, আহাম্মদ আলীর ছেলে নুর ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, নূর আমিন, নূর হোসেন, মৃত কছিমুদ্দিনের ছেলে আবদুল লতিফ, মৃত কয়ছারের ছেলে কফিল উদ্দিন, কফিল উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল ইসলামের সবকিছুই। সর্বস্ব হারিয়ে এখন তারা নির্বাক।

ক্ষতিগ্রস্থ আহাম্মদ আলী (৬৮) ও তার স্ত্রী ছালেহা বেগম (৬০) আর্তনাদ করে বলেন, বাবা হামার সোউগ পুড়ি ছাই হয়া গেইছে। হামরা নিশ্ব হয়া গেউলোং। বেডা-বেডি সগারে বাড়িঘর পুড়ি ছাই হয়া গেইছে। এলা আর হামার ঘুমাবার জায়গা নাই।

এ ঘটনায় রাতেই নাগেশ্বরী থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ রওশন কবীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খাদ্য সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, আটা, লবণ, তেল দিয়েছেন।

পরদিন শনিবার উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাসুম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ২ পরিবার এলাকায় অবস্থান না করায় ৭ পরিবারের প্রত্যেক পরিবারে ৫ হাজার করে টাকা এবং ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়াও টিনের আবেদন পেলে পরবর্তীতে টিন দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাসুম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য