আনোয়ার হোসেন আকাশ রাণীশংকৈল, থেকেঃ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় যখন মানুষকে ঘরে থাকার আহবান জানানো হচ্ছে এবং মানুষকে বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে এলে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিচ্ছে প্রশাসন এবং সরকারী নির্দেশনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া সব দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। এবং মসজিদে জমায়েত করে নামাজ পড়া আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

সেখানে ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলা ও পৌর শহরের সাপ্তাহিক হাটগুলো ব্যাপক মানুষের সমাগমে অবাধে চলছে। আবার উপজেলা প্রশাসন বলছে, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করতে হবে ও রাত ছয়টার পরে জনসাধারণের চলাফেরা করা চলবে না।

এ কারণে গত শুক্রবার(১০এপ্রিল) রাতে ঘুরাঘুরি করার কারণে পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে মারপিট করেছে পুলিশ। আবার শনিবার (১১ এপ্রিল) সামাজিক দুরত্ব না মেনে ঔষুধ কেনাবেচা, লোকসমাগম রাখা ও বিভিন্ন ঔষুধের গায়ে মেয়াদ লেখা না থাকাসহ অন্যান্য অপরাধে পৌরশহরের শিবদিঘী যাত্রীছাউনি মোড়ে এক মেডিসিনের দোকানদার বিদ্যা নাথকে তিনহাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র সাহা।

অথচ সাপ্তাহিক হাটগুলো প্রকাশ্য দিবালগে প্রশাসনের নাগের ডগায় চললেও এ নিয়ে কোন পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ সচেতনমহলের। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ ও দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ আপাতত জনসমাগম বন্ধ রাখার জন্য বার বার তাগাদা দিচ্ছে। নাহলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুকি বেড়ে যেতে পারে বলে তারা হুশিয়ারী দিয়েছেন।

শনিবার বসে কাতিহার রবিবার বসে নেকমরদ ও শুক্রবার বসে বলিদ্বাড়া এবং বুধবার বসে পৌর শহরের বন্দর ও শিবদিঘীতে বাশেঁর হাট।
জানা গেছে, সপ্তাহে শনিবার ও রবিবার উপজেলার বড় হাটগুলোর মধ্যে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পাশাপাশি গরু ছাগলের জন্য বিখ্যাত হাট কাতিহার ও নেকমরদে গরু ছাগল ক্রয় বিক্রয় বন্ধ হলেও গত ২৬ মার্চ থেকে এ হাট দুটিতে কাঠের তৈরী ফার্নিচার গমের পাইকারী বাজার বাশের তৈরী কুলা পেড়িসহ কাচাঁমাল কলা কাপড় বিভিন্ন কবিরাজি ঔষুধ হাস মুরগী এবং বড় পরিসরে মাছ কেনাবেচা এবং হাটে তৈরী বিভিন্ন খাবার ও খোলাবাজারে ফল বিক্রয় অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও গেল শুক্রবার(১০এপ্রিল)যথা নিয়মে বলিদ্বাড়া এবং বুধবার(৮এপ্রিল) বন্দর ও শিবদীঘির বাশ হাট চলেছে।

শনিবার(১১এপ্রিল) ছিলো কাতিহারের সাপ্তাহিক হাট এদিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গরু ছাগল বাদে অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী কেনাবেচা অবাধে হচ্ছে। কোন ক্রেতা বিক্রেতার মাঝে নেই সামজিক সচেতনতা বা দুরত্ব। একে অপরে শরীর ঘেঁষে করছে চলাফেরা ও ক্রয় বিক্রয়। কারো মুখে রয়েছে মাস্ক কারো মুখে নেই।

এ নিয়ে কথা হয় এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী সালামের সাথে তিনি বলেন,হাট বসাতে তো কেউ নিষেধ করে নি। ইজারাদার ইজারা তো নিচ্ছে। আর কেনাবেচা করতে গেলে এত নিয়ম কানুন মানার বিষয় তো মনে থাকে না।

হাটে খরচ করতে আসা মিলনসহ অনন্ত দশ জন্ ব্যক্তি বলেন, হাটগুলোতে মানুষের অবাধ বিচরণ হচ্ছে। আর অনেক লোকের সমাগমে তো সামাজিক দুরত্ব মানা সম্ভব হয়ে উঠে না। হাটে বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসে। কার কি অবস্থা কেউ তা জানে না। আমি মনে করি প্রশাসনের উচিত এ হাটগুলো বসা আপাতত স্থগিত করা।

জানতে চাইলে কাতিহার হাট ইজারাদারের শেয়ার পার্টনার ব্যবসায়ী তোজাম বলেন, আমাদের ইউএনও বলেছে গরু ছাগল ক্রয় বিক্রয়ের আয়োজন করা যাবে না। তা করছি না। অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীর বিষয়ে বলে নি তাই হাট চলছে। আর আমরা তো টাকা দিয়ে হাট নিয়েছি। তাই না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী আফরিদা শনিবার বেলা তিনটায় মুঠোফোনে জানান, হাটে শুধু কাচামাল কেনাবেচা চলবে। আর সাপ্তাহিক হাটগুলো একবারে বন্ধের জন্য কোন নির্দেশনা আসে নি। তাই বন্ধ করা যাচ্ছে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য