আমেরিকার নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে এত বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং সেখানে এমন এক ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে যে, নিরুপায় হয়ে লাশগুলোকে গণকবর দিতে হচ্ছে। এরইমধ্যে গণকবর দেয়ার ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে। নিউ ইয়র্ক শহরে মারা গেছে সাত হাজার মানুষ।

মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে একদিনেই রেকর্ড দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

দেশটিতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যাও ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের উহানে আবির্ভূত হওয়া করোনাভাইরাস সাড়ে তিন মাসের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে; আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখের বেশি।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি; শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ১ হাজার পেরিয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭৫৮ তে।

কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যায় সবার উপরে থাকা ইতালিকেও দেশটি প্রায় ধরে ফেলেছে। শনিবার পর্যন্ত ইতালিতে করোনাভাইরাসে ১৮ হাজার ৮৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়।

একদিনে রেকর্ড ২ হাজার ১০৮ জনের মৃত্যু হলেও হোয়াইট হাউসের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্সের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউন ও নানান বিধিনিষেধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আক্রান্তের হারের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা আগের ধারণার চেয়ে অনেক কম হবে। শুরুর দিকে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে এক থেকে দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল।

কয়েকদিনের তথ্য উল্লেখ করে নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো বলেছেন, তারা আক্রান্ত-মৃতের গ্রাফকে ‘সমতল করতে’ সক্ষম হয়েছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস যত জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই নিউ ইয়র্কের। শহরটির হার্ট আইল্যান্ডের একটি গণকবরে থরে থরে সাজানো কফিনের ছবিটি দেখার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্পও।

হোয়াইট হাউসের টাস্ক ফোর্সের অন্যতম সদস্য ড. ডেবোরাহ বার্ক্স বলেছেন, সংক্রমণের হার স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ মিললেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো আক্রান্তের ‘সর্বোচ্চ শিখরে’ পৌঁছায়নি।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুর পরিমাণ সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাবে, এরপর কমতে শুরু করে মে মাসের ১ তারিখের দিকে ৯৭০ এর কাছাকাছি পৌঁছাবে। অর্থনীতি ফের সচল করতে ওই দিন থেকেই দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দেওয়া বেশকিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার চিন্তা চলছে।

টাস্ক ফোর্সের আরেক সদস্য ড. অ্যান্থনি ফাউচি ‘আসছে দিনগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা স্থিতিশীল ও ধীরে ধীরে নেমে আসতে দেখা যাবে’ বলে মন্তব্য করেছেন।

সংক্রমণের বিস্তৃতি ঠেকাতে ‘সামজিক দূরত্বের’ মতো নির্দেশনাগুলো আরও কিছুদিন রাখা উচিত হবে বলেও সুপারিশ তার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য