দিনাজপুর সংবাদাতাঃ খানসামায় সবার জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে নানা কৌশলে চলে আসা লোকজন। গত দুই-তিন দিন ধরে জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা কাভার্ডভ্যান বা অন্য কোনো পরিবহনে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ওইসব লোকজন আসছেন। যাদের প্রত্যেকের বাড়ি খানসামা উপজেলায়, আর ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তারা হয় চাকরি না হয় ব্যবসা করেন। এতে খানসামা উপজেলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শামসুদ্দোহা মুকুল জানান, খানসামায় এখনো পর্যন্ত কোভিড-১৯ রোগী পাওয়া হয়নি। কিন্তু তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ থাকলেও নানাভাবে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে লোকজন আসছেন। কেউ একা, কেউবা সপরিবারে। ফলে খানসামা উপজেলা বর্তমান সময়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই যারা এর মধ্যে এসেছে তাদের সঠিক তথ্য উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, থানা ও ইউনিয়ন পরিষদে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন এবং তাদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ প্রদান করেন।

খানসামা থানার ইনচার্জ অফিসার শেখ কামাল হোসেন বলেন, দেশে প্রথম করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয় নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুরের শিবচরে। পরে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে গেছে। এই মুহূর্তে করোনাভাইরাস ছড়ানোর অন্যতম বড় স্থান নারায়ণগঞ্জ। সারা দেশেই নারায়ণগঞ্জ থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে করোনাভাইরাসের রোগী পাওয়া যাচ্ছে। তাই যারা এর মধ্যে এসেছে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, ‘নানা কৌশলে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে কিছু লোক পালিয়ে এসেছেন। যারা এর মধ্যে এসেছেন তাদের উপজেলায় মাইকিং করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা এবং তাদের সংস্পর্শে কাউকে না যাওয়ার জন্যও সবাইকে বলা হয়েছে। এই আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য