আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট থেকেঃ প্রসূতি স্ত্রীর জন্য হাসপাতালে খাবার পৌছতে ৫কিলোমিটার পায়ে হেঁটে থানায় পৌছে বাকী ১৫ কিঃমিটার পথের জন্য গাড়ি সহায়তা দিলেন পুলিশ।

বুধবার(০৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের আদিতমারী থানায় পৌছেন মমিনুর রহমান নামে এক যুবক। তিনি উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

যুবক মমিনুর রহমান জানান, গত সোমবার প্রসব বেদনায় ছটফট করা স্ত্রী সুলতানা বেগমকে লালমনিরহাট শহরের যমুনা ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সেখানে সিজার (অস্ত্রপাচার) করে ছেলে সন্তান প্রসব করেন সুলতানা। সেই থেকে মা ছেলে ক্লিনিকের বেডে রয়েছেন। করোনার প্রভাবে হোটেল রেস্তোরা বন্ধ থাকায় বাড়ি থেকে প্রসূতির খাবার পৌছতেন মমিনুর রহমান। যানবাহন হিসেবে গনপরিবহন অটোরিক্সা ব্যবহার করতেন তিনি।

বুধবার(০৮ এপ্রিল) সকাল থেকে সকল ধরনের যানবাহন বন্ধ করে প্রশাসন। ফলে ক্লিনিকের বিস্কিট কলায় কেটেছে প্রসূতির দুপুরের খাবার। বাড়ির রান্না করা খাবার পৌছতে না পারলে রাতেও অভুক্ত থাকবেন প্রসূতি স্ত্রী। তাই রাতের খাবার বক্সে ভরিয়ে বাড়ি থেকে বিকেলে পায়ে হেঁটে রহনা করেন মমিনুর। যেতে হবে ২০কিঃমিঃ পথ। ৫ কিঃমিঃ পথ পায়ে হেঁটে হাঁপাতে হাঁপাতে আদিতমারী থানায় পৌছেন তিনি। প্রসূতি স্ত্রীর কাছে পৌছতে তাকে আরো ১৫ কিঃমিঃ পথ পাড়ি দিতে হবে। তাই থানায় প্রবেশ করে পুলিশের কাছে যানবাহন সহায়তা চান মমিনুর রহমান। দাখিল করেন উপযুক্ত প্রমান।

বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাইফুল ইসলামের নির্দেশে এসআই রঞ্জু আহমেদ লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কে অর্ধ ঘন্টা অপেক্ষা করে লালমনিরহাট গামি একটি কৃষিপন্যবাহি ট্রাক দাঁড় করিয়ে রোগীর খাবারসহ মমিনুরকে ট্রাকে চালকের পাশের আসনে বসিয়ে দেন।

পুলিশের এমন মানবিক আচরনে আনন্দে কেঁদে ফেলেন মমিনুর রহমান। বলেন, অনেক শুনেছি, আজ দেখলাম। পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ। এমন সেবা মৃত্যুর পুর্বেও মনে থাকবে।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে বুধবার থেকে জেলায় গনপরিবহন বন্ধ রয়েছে। ওই ব্যাক্তি ৫কিঃমিঃ পথ পায়ে হেঁটে থানায় এসে রোগীর খাবার পৌছনোর মত যানবাহন সহায়তা চান। থানায় গাড়ি সংকট থাকায় লালমনিরহাটগামি একটি ট্রাকে তাকে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য