বিশ্বজুড়ে মহামারী সৃষ্টিকারী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যায় স্পেনকে ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার সকালে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কোভিড-১৯ এ যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ১৪ হাজার ৮১৭ জনে দাঁড়িয়েছে, যেখানে স্পেনে মৃতের সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৯২ জন।

বিশ্বজুড়ে ইতালির পর এখন যুক্তরাষ্ট্রেই কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে মৃতদের প্রায় অর্ধেকই নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের।

বুধবার অঙ্গরাজ্যটিতে একদিনেই ৭৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এটিই একদিনে নিউ ইয়র্কে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা। এতে অঙ্গরাজ্যটিতে মৃতের সংখ্যা ছয় হাজার ২৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার হামলায় যত লোক নিহত হয়েছিল অঙ্গরাজ্যটিতে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা তার দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে বলে গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো জানিয়েছেন।

“প্রত্যেক সংখ্যাই একটি মুখ। ভাইরাসটি বৃদ্ধ ও দুর্বলদের আক্রমণ করছে, তাদের রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব,” বলেছেন তিনি।

মৃতদের প্রতি শোক জানাতে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে পতাকা অর্ধনমিত রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন এ গভর্নর।

বুধবার এ অঙ্গরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এসব সত্ত্বেও রাজ্যটির কর্মকর্তাদের জানানো মৃত্যুর সংখ্যা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষগুলো, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এরপরও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গভর্নর কুওমো। তিনি জানান, হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যা কমেছে এবং অন্যান্য তথ্যে এমন আভাস মিলছে যে নিউ ইয়র্ক আক্রান্তের হার নিয়ন্ত্রণে সফলতা পাচ্ছে।

নিউ ইয়র্কের প্রতিবেশী নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে কোভিড-১৯ এ বুধবার ২৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এ রাজ্যে এটিই একদিনে সবেচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা।

চলতি সপ্তাহে করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে বহু মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি একটি ‘বৃহৎ বিস্ফোরণের’ মাধ্যমে মার্কিন অর্থনীতি ফের শুরু করতে চান তবে মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পাওয়া শুরু হওয়ার আগে নয়।

এ বিষয়ে ট্রাম্প কোনো সময়সীমা উল্লেখ না করলেও তার প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ল্যারি কাডলো মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, আগামী চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে এটি ঘটানো সম্ভব হতে পারে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্তের মোট সংখ্যা চার লাখ ৩২ হাজার ১৩২ জন এবং সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৯০৬ জন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য